বিশেষ প্রতিবেদকঃ সম্প্রতি ১৫/১৬ টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও পত্রিকায় প্রকাশিত “বিআইডব্লিউটিএ ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ: দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তা সিন্ডিকেটের নাম, আলোচনায় এ কে এম আরিফ উদ্দিন” শীর্ষক প্রতিবেদনে পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে কেন্দ্র করে যে তথ্য ও অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তার বিষয়ে নিম্নোক্ত গঠনমূলক প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।

প্রথমত, প্রতিবেদনে দুদকের অনুসন্ধানসংক্রান্ত নথি ও অভিযোগপত্রের উল্লেখ থাকলেও কোথাও কোনো তদন্তে এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বা কোনো আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন—এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। দুদকের অনুসন্ধান বা তথ্য চাওয়ার প্রক্রিয়াকে কোনো ব্যক্তির অপরাধের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা আইন, ন্যায়বিচার এবং প্রাকৃতিক বিচারনীতির পরিপন্থী।

দ্বিতীয়ত, প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের রায় কিংবা সরকারি সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো এখনো কেবল অভিযোগ হিসেবেই বিবেচ্য এবং সেগুলোকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।

তৃতীয়ত, বিআইডব্লিউটিএ একটি বৃহৎ সরকারি সংস্থা, যেখানে প্রকল্প, ইজারা, ড্রেজিং, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বিভিন্ন স্তরের অনুমোদন ও তদারকির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব কার্যক্রমের জন্য এককভাবে কোনো কর্মকর্তাকে দায়ী করা প্রশাসনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রতিবেদনে এই প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।

চতুর্থত, প্রতিবেদনে এ কে এম আরিফ উদ্দিনের পরিবার-পরিজনের নামে সম্পদ থাকার বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও এসব সম্পদের বৈধতা বা অবৈধতার বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল উল্লেখ করা হয়নি। শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে—এ বিষয়টি গণমাধ্যমের আরও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল।

পঞ্চমত, প্রতিবেদনের শেষাংশে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাংবাদিকতার নৈতিকতা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণের দায়িত্ব সম্পূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
ষষ্ঠত, প্রতিবেদনে বিভিন্ন অভিযোগ, অনুসন্ধানী নথি এবং অভিযোগকারীদের বক্তব্য একত্রে উপস্থাপন করা হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই, প্রাসঙ্গিক দলিলপত্র বিশ্লেষণ এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির অবস্থান সমান গুরুত্বে তুলে ধরা হয়নি। ফলে প্রতিবেদনের ভারসাম্য ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা বিশ্বাস করি, দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত হওয়া এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হলেই তাকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। তাই এ বিষয়ে দুদক বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সকলের সাংবিধানিক অধিকার, ব্যক্তিগত মর্যাদা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

প্রতিবাদকারী
এ কে এম আরিফ উদ্দিন (পরিচালক বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) বিআইডব্লিউটিএ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *