ডেস্ক নিউজ : নেত্রকোনার মদনে ধর্ষণের শিকার শিশুর পেটে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা অভিযুক্ত সেই মাদ্রাসাশিক্ষক আমানউল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর। নবজাতক শিশুর ডিএনএ পরীক্ষায় শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগরের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ৯৯.৯৯৯ শতাংশ হুবহু মিলেছে। এতে নবজাতকের জৈবিক বাবা হিসেবে ওই শিক্ষক প্রমাণিত হয়েছেন।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা নারী ও শিশু আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মো. নুরুল কবীর রুবেল।

তিনি বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রতিবেদন থানা পুলিশের হাতে এসেছে।

মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমানউল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। এরপর প্রাণনাশের হুমকি দিলে শিশুটি প্রথমে ঘটনা গোপন রাখলেও পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন হলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরে তার পরিবার গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর জানতে পারে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা।

এই ঘটনা জানাজানি হলে শিশুর পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকিসহ শিশুর নানা ও মামার ওপর দায় চাপিয়ে স্থানীয়ভাবে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পরিবারটি ম্যানেজ না হওয়ায় মামলা হওয়ার ভয়ে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে পালিয়ে যান ওই শিক্ষক। এদিকে, এ ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় নারী ও শিশু আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পরও অজ্ঞাত স্থানে থেকে আত্মীয়স্বজন দিয়ে ওই শিশুর পরিবারকে অনবরত হুমকি ধমকি দিতে থাকেন অভিযুক্ত। একপর্যায়ে ঘটনাটি দেশজুড়ে জানাজানির পর তীব্র ক্ষোভের জন্ম নিলে ৫ মে অজ্ঞাত স্থান থেকে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন সেই শিক্ষক।

এদিকে, র‍্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত করে ফেসবুকে লাইভের পরদিনই ৬ মে ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেফতার করে নেত্রকোনা মদন থানায় হস্তান্তর করে। পরে গ্রেফতারকৃতকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এদিকে, হুমকির মুখে থাকা ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে সুরক্ষা দিতে সমাজসেবার আওতায় সিলেটে একটি সেফহোমে রাখা হয়। এরপর গত ১৭ মে আদালতের অনুমতিক্রমে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ নমুনা জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

বর্তমানে ভুক্তভোগী শিশু ও তার নবজাতক সিলেটের সেফহোমে রয়েছে। এরপর আদালতের নির্দেশে ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায়। সেখানে দুটো ডিএনএ পরীক্ষায় হুবহু মিলে যাওয়ার প্রতিবেদন ২৪ আগস্ট নেত্রকোনা পুলিশের হাতে পৌঁছায়।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী মো. নুরুল কবীর রুবেল আরও জানান, এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি এখন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং অল্প সময়ের মধ্যেই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *