বিনোদন ডেস্ক : বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সমুদ্রমুখী বিলাসবহুল বাড়ি ‘মান্নাত’-এ সংস্কারকাজ চলছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। সে কারণে পরিবার নিয়ে অন্যত্র থাকছেন শাহরুখ খান। তবে ঠিক কেমন বদল করা হবে শাহরুখের বাড়িটি? নতুন তলা যোগ করা হবে কি? বদলে যাবে পুরো রূপ?— সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানালেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও বলিউডের অন্যতম  প্রযোজক আনন্দ পণ্ডিত।

এর আগে ২০০০ সালের শুরুর দিকে আনন্দ পণ্ডিত তার বিলাসবহুল রিয়েল এস্টেট সংস্থা ‘শ্রী লোটাস ডেভেলপার্স অ্যান্ড রিয়েলটি’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংস্থার প্রথম প্রকল্প থেকেই তিনি বলিউডের তারকাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। আনন্দ বলেন, দারুণ ক্রেতা পেয়েছিলাম ওই প্রজেক্টে। অভিনেতা হৃতিক রোশন দুটি তলা কিনেছিলেন। পরিচালক রাকেশ রোশন কেনেন তিনটি। অভিনেতা অজয় দেবগন কেনেন একটি তলা। ওই সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রজেক্ট হয়ে ওঠে।

এরপর থেকে তার ব্যবসা ক্রমশই বড় হয়েছে এবং বলিউডের অন্দরমহলে তার আনাগোনাও বেড়ে যায়। তিনি বলেন, প্রায় প্রত্যেক তারকার কাজ আমরা করি। বলিউডের ৮০-৯০ শতাংশ আমার সংস্থার সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে তার সংস্থা শাহরুখের দুটি বিলাসবহুল সম্পত্তির কাজও করছে। এর মধ্যে প্রথমটি হলো—বান্দ্রা ব্যান্ডস্ট্যান্ডের প্রাসাদোপম বাংলো ‘মান্নাত’। বর্তমানে সেখানে সংস্কারকাজ চলছে। আনন্দ বলেন, ‘মান্নাতের পেছনের দিকে বেশ কয়েকটি তলা তৈরি করছি।’

‘মান্নাত’-এর সংস্কারকাজ চলাকালীন শাহরুখ ও তার পরিবার— স্ত্রী, প্রযোজক ও অন্দরসজ্জাশিল্পী গৌরী খান, বড় ছেলে ও পরিচালক আরিয়ান খান, মেয়ে ও অভিনেত্রী সুহানা খান এবং ছোট ছেলে আব্রাম খান— বান্দ্রার পালি হিল এলাকায় ‘পূজা কাসা’য় বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিয়েছেন। পূজা কাসার মালিক বর্ষীয়ান প্রযোজক বাসু ভগনানি।

শাহরুখের আরও একটি সম্পত্তি পুনর্নির্মাণের কাজ করছেন আনন্দ। সেই কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে সেই বাড়িটির সঙ্গে অভিনেতার আবেগের সম্পর্কের কথা জানতেন না তিনি। আনন্দ বলেন, ‘যখন আমরা কাজ শুরু করি, আমার কোনো ধারণা ছিল না। যদিও এ ঘটনার কথা শাহরুখ স্যার আগে একবার বলেছিলেন। কিন্তু বহুতলের নাম উল্লেখ করেননি।’

এই বহুতলের সঙ্গে কীভাবে অভিনেতার আবেগ জড়িয়ে? বান্দ্রার কার্টার রোডে বেশ কিছু বহুতল পুনর্নির্মাণের কথা শাহরুখকে বলছিলেন আনন্দ। সেই সময় তিনি ‘শ্রী অমৃত সোসাইটি’র নাম উল্লেখ করেন। নামটি শুনেই উচ্ছ্বসিত হয়ে শাহরুখ তাকে বলেন, দিল্লি থেকে মুম্বাইয়ে চলে এসে ১৯৯১ সালে গৌরীকে বিয়ে করার পর এটাই ছিল তার মুম্বাইয়ে কেনা প্রথম ফ্ল্যাট।

২০০১ সালে ‘মান্নাত’-এ চলে যাওয়ার পরও ওই ফ্ল্যাটটি নিজের কাছে রেখেছেন শাহরুখ খান। বর্তমানে সেটি ভাড়া দেওয়া রয়েছে। এ বাড়িটিও সমুদ্রমুখী। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে অতিরিক্ত ১৫৫ শতাংশ জায়গা তৈরি করে ২০২৭ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।

‘মান্নাত’ ঐতিহ্যবাহী সম্পত্তি ও সমুদ্রের খুব কাছাকাছি হওয়ায় বিশাল আকারের বাড়িটির উল্লম্ব বৃদ্ধির জন্য ‘মহারাষ্ট্র কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র কাছে অনুমতি চেয়েছেন শাহরুখ। দুটি তলা যোগ করার জন্য আবেদন করেছেন শাহরুখ খান। এর ফলে বাড়িটির মোট ‘বিল্টআপ এরিয়া ৬১৬.০২ বর্গমিটার’ বাড়বে। এ কাজের আনুমানিক খরচ ২৫ কোটি টাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *