ক্রীড়া ডেস্ক : রিংয়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন রেসলিং কিংবদন্তি ‘দ্য বিস্ট’ ব্রক লেসনার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড ভাঙা-গড়ার পর পেশাদার রেসলিং থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ডব্লিউডব্লিউইর ১০ বারের এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও সাবেক ইউএফসি হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন।

মঙ্গলবার জনপ্রিয় ‘দ্য প্যাট ম্যাকাফি শো’-তে হাজির হয়ে নিজের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান ৪৯ বছর বয়সী এই রেসলিং কিংবদন্তি। নিশ্চিত করেন, গত শনিবার ডব্লিউডব্লিউই সামারস্লামের মঞ্চে ওবা ফেমির বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ‘হেল ইন আ সেল’ ম্যাচটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের শেষ লড়াই।

অবসরের আবেগঘন মুহূর্তে লেসনার বলেন, আমি আজ পুরো বিশ্বকে জানাতে এসেছি যে, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নিয়েছি। শনিবারের রাতটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের ছিল। রেসলিং রিং হোক কিংবা অন্য কোনো লড়াইয়ের আঙিনা— আমার পথচলা এখানেই শেষ।

চলতি বছরের রেসলম্যানিয়ায় ওবা ফেমির কাছে হেরে যাওয়ার পর রিংয়ের মাঝে নিজের বুট ও গ্লাভস খুলে রেখে প্রস্থান করেছিলেন লেসনার। সেই সময়ই তার বিদায়ের জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তবে লেসনারের মতে, ভেতরে তখনও লড়াইয়ের কিছু আগুন বাকি ছিল।

শেষপর্যন্ত নিজের ঘরের মাঠ মিনিয়াপোলিসে সামারস্লামের ম্যাচটি দিয়েই চিরবিদায়ের মহারণ সাজান তিনি।

পেশাদার রেসলিংয়ে বিশ্বজয়ের আগেই অপেশাদার রিঙে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন এই মার্কিন তারকা। ২০০০ সালে মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে এনসিএএ ডিভিশন ওয়ান জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পাশাপাশি দুইবার অল-আমেরিকান ও বিগ টেন চ্যাম্পিয়ন হন তিনি।

২০০২ সালে ডব্লিউডব্লিউইতে নেমেই একের পর এক তাণ্ডব শুরু করেন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মহা-তারকা দ্য রককে হারিয়ে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে জেতেন বিশ্ব শিরোপা।

ক্যারিয়ারে ১০টি ওয়ার্ল্ড টাইটেল ছাড়াও দুটি রয়্যাল রাম্বল, ২০০২ সালের ‘কিং অব দ্য রিং’ এবং ২০১৯ সালের ‘মানি ইন দ্য ব্যাংক’ জয়ের নজির গড়েন তিনি। তবে ২০১৪ সালের রেসলম্যানিয়ায় ‘দ্য আন্ডারটেকার’-এর টানা ২১ ম্যাচের ঐতিহাসিক অপরাজিত স্ট্রাইক চুরমার করে দেওয়াকেই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত অর্জন মনে করা হয়।

রিংয়ের বাইরেও সাফল্য ধরা দিয়েছে এই মহাতারকার হাতে। ২০০৪ সালে এনএফএলে মিনেসোটা ভাইকিংসের হয়ে আমেরিকান ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও মূল দলে জায়গা হয়নি। তবে ২০০৭ সালে মিক্সড মার্শাল আর্টসে (এমএমএ) নাম লেখানোর পর নিজের মাত্র চতুর্থ ম্যাচেই র‌্যান্ডি কুতুরকে হারিয়ে ইউএফসি হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন সেজে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন। ২০১৬ সালে ইউএফসি ২০০-তে মার্ক হান্টের বিপক্ষে শেষবার খাঁচায় লড়াইয়ে নেমেছিলেন তিনি।

বিদায়বেলায় নিজের শিকড়কে ভোলেনি এই মহাতারকা। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লেসনার বলেন, আমি সাউথ ডাকোটার এক অতি সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলাম। বুনেছিলাম বড় স্বপ্ন, আর কেবল কঠোর পরিশ্রম করে গেছি। এই জীবনে যা কিছু অর্জন করতে পেরেছি, তার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *