ক্রীড়া ডেস্ক : টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এক নম্বর অবস্থানে অস্ট্রেলিয়া তো এমনি এমনি হয়নি। ঘরের মাঠে গত আড়াই বছরে ১৫ টেস্টের মধ্যে জিতেছে ১১টিতেই। অজিদের তাদের ডেরায় হারাতে তাই করতে হবে বিশেষ কিছুই। হান্নান সরকারের মতে, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশ কাঁপিয়ে দিতে পারে।’

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে দলে থাকা কোনো ক্রিকেটারেরই অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এর মধ্যে ইনজুরির কারণে পেসার নাহিদ রানাকে না পাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে দল। এ অবস্থায় পেস আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন তাসকিন আহমেদ। তার সঙ্গে থাকছেন হাসান মাহমুদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ এবং অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক হাসান।

মিরপুরে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হান্নান বলেন, ‘৭০ রানে ৭ উইকেট! আমার মনে হয় এটা কঠিন। অসম্ভবই বলব। কারণ, এই কন্ডিশনে আমাদের যারা বোলিং করছে, তারা কখনো খুব বেশি বোলিং করেছে আমি বলব না। যেমন ইবাদত, খালেদ, তাসকিন যারাই আছে, এমনকি মুশফিকের কথা যদি বলি। পেস বোলারদের কথাই বিশেষ করে বলতে হচ্ছে।’

হান্নান উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপের কথাও। বাংলাদেশ সিরিজের দলে থাকা ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথ, মারনাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারিরা এ বছরের শুরুতে অ্যাশেজে ভালো ব্যাটিং করেছেন। হেড ঘরের মাঠে অ্যাশেজে সর্বোচ্চ ৬২৯ রান করেছেন। তিনটি ফিফটির তিনটিকেই সেঞ্চুরিতে পরিণত করেছেন। হান্নান বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে তার আশা, তাসকিনরা চাইলে অস্ট্রেলিয়াকে ধসিয়ে দিতে পারেন।

মিরপুরে আজ সাংবাদিকদের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ বলেন, ‘৭০ রানে ৭ উইকেট অস্ট্রেলিয়ার যে ব্যাটিং লাইনআপ, সেই ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে আমার মনে হয় যে অস্ট্রেলিয়াকে আউট করা, ৭০ রানে আউট করা খুবই কঠিন। তবে ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই। যদি এটা হয় তাহলে স্বপ্নপূরণের মতোই মনে হবে আমার কাছে।’

ডারউইন ও ম্যাকের মতো অচেনা দুই ভেন্যুতে বাংলাদেশ এবার খেলছে টেস্ট সিরিজ। এই ভেন্যুতে ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংসে হেরেছিল বাংলাদেশ। এই ডারউইনে সর্বসাকল্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৮ ম্যাচ হয়েছে। অচেনা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতেই বাংলাদেশ দল আগেভাগেই চলে গেছে। ডারউইনে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভিডিও বার্তায় দেখা গেছে, কতটা কঠোর অনুশীলন করছেন ক্রিকেটাররা। ব্যাটার, পেসার, স্পিনার প্রত্যেকেই নেটে নিজেদের সেরাটা দিচ্ছেন।

হান্নানের মতে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো করতে হলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। মিরপুরে আজ সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ বলেন, ‘এ ধরনের পেস কন্ডিশনে কিন্তু বোলিং করার আলাদা একটা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কোন লেংথে করতে হবে এবং কোন লেংথে থেকে কীভাবে ব্যাটারকে বিট করতে হবে। তাই ঐতিহ্যগত লেংথ আর এই কন্ডিশনের লেংথ কিন্তু আলাদা হয়। তাই এখানে মানিয়ে নেওয়াটা জরুরি।’

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাঠে দুই টেস্ট বাংলাদেশ খেলেছিল খালেদ মাহমুদ সুজনের নেতৃত্বে। সেই দলে ছিলেন হান্নান-হাবিবুল বাশার সুমনরা ছিলেন। সেই সুমন বর্তমানে বিসিবির প্রধান নির্বাচক। সেবার দুটি টেস্টই বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংসে। ডারউইন টেস্ট শেষ হয়েছিল চার দিনে। আর কেয়ার্নস টেস্টের ফল এসেছিল তিন দিনেই। আর সবশেষ মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট নিয়েছেন তাইজুল। সেই সিরিজে ১১ ও ৯ উইকেট নিয়েছেন রানা ও মিরাজ। যে রানা এবার নেই অস্ট্রেলিয়া সিরিজে।

প্রত্যেক দিনের পরিস্থিতি যাচাই করে বাংলাদেশের খেলা উচিত বলে মনে করেন হান্নান। আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় যে পাঁচ দিন পর্যন্ত খেলা নিব, এটা চিন্তার চেয়ে বড় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রত্যেক দিনেরটা আলাদাভাবে চিন্তা করা। উইকেটটা কেমন আচরণ করছে,সেটা দেখার পরে সেই দিনটা কীভাবে আমরা কাজে লাগাতে চাই। উদাহরণ হিসেবে আমরা ধারণা করছি হয়তো খুব বাউন্স হবে। দেখা গেল ডারউইনের উইকেটে একদম ট্রু বাউন্স যেখানে এক্সট্রা বাউন্সটা নেই, সেখানে হয়তো আমরা নরমাল শটস খেলতে পারি।’

বোলারদের ফাঁদে যেন ব্যাটাররা না পড়েন, সেদিকেও সতর্ক করেছেন হান্নান। মিরপুরে আজ তিনি বলেন, ‘আমি ছাড়ার যে বিষয়টা বললাম, এখানে বিশ্বমানের বোলার যারা তারা কিন্তু লোভনীয় বল করে। মানে একদম মনে হয় যে হাফভলি বল। কিন্তু আসলে হাফভলি না। একটু দূরে ফেলা হয় এবং বাড়তি বাউন্সের সঙ্গে মুভমেন্ট থাকে। সেই জায়গায় বল ছাড়াটা, ওই ড্রাইভিং স্লটের বলটা ছাড়াটা খুব জরুরি। যদি আমি প্রচুর শট খেলতে থাকি, টেস্ট ক্রিকেটে যেটা হয়—একটা বোলার কিন্তু চায় তাকে তিনটা চারে মেরে ব্যাটার আউট হয়ে যাক। ব্যাটাররা যদি সেই লোভটা সামলাতে না পারে, তাহলেই কিন্তু একটা-দুইটা চার মেরে শটস খেলে আউট হয়ে যাওয়ার ভয়টা চলে আসে। সেই জায়গা থেকে আমাদেরকে রান করার ব্যাপারে ভাবতে হবে।’

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তখন থেকে শুরু করে নিজেদের ডেরায় ১৫ টেস্টের মধ্যে অজিরা জিতেছে ১১ ম্যাচ। অজিরা এই সময়ে হেরেছে তিন টেস্ট। এক টেস্ট ড্র হয়েছে।

ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৩ আগস্ট। ম্যাকেতে ২২ আগস্ট দ্বিতীয় তথা শেষ টেস্ট খেলতে নামবে দুই দল। আট ম্যাচে সাত জয়ে ৮৭.৫০ শতাংশ সফলতার হার নিয়ে ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রে সবার ওপরে অস্ট্রেলিয়া। এই চক্রে চারে থাকা বাংলাদেশের সফলতার হার ৫৮.৩৩ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *