আন্তর্জাতিক ডেস্ক : হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শিকার হওয়া প্রমোদতরি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ থেকে উদ্ধারকৃত এক স্প্যানিশ নাগরিকের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। সোমবার স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদ্রিদের একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় ওই ব্যক্তির পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

আক্রান্ত ব্যক্তি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ প্রমোদতরিতে থাকা ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিকের একজন, যাদের গত ১০ মে থেকে মাদ্রিদের গোমেজ উল্লা সেন্ট্রাল ডিফেন্স হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

প্রমোদতরিতে প্রাথমিক প্রাদুর্ভাবের পর শুরু হওয়া মহামারি-সংক্রান্ত নজরদারির মাধ্যমে এই রোগীকে চিহ্নিত করা হয়। সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়ার পরপরই রোগীকে হাসপাতালের উচ্চ-স্তরের আইসোলেশন ইউনিটে (UATAN) স্থানান্তর করা হয়েছে। ওই জাহাজে থাকা স্প্যানিশ নাগরিকদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন। অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, যেহেতু কঠোর আইসোলেশন ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মধ্যেই এই সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, তাই সাধারণ মানুষের জন্য কোনো বাড়তি ঝুঁকি নেই।

গত এপ্রিলে প্রমোদতরি ‘এমভি হন্ডিয়াস’ আর্জেন্টিনা থেকে রওনা হওয়ার পর তিন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে বেশ কয়েকটি দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে অনুসন্ধান শুরু করে। এপ্রিলের শেষের দিকে জাহাজের বেশ কিছু যাত্রী দূরবর্তী দক্ষিণ আটলান্টিক দ্বীপ সেন্ট হেলেনায় নেমে যান। বাকি যাত্রীরা মে মাসে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নামার পর তাদের নিজ নিজ দেশে বিমানে ফেরত পাঠানো হয় এবং ক্রু সদস্যরা পরে নেদারল্যান্ডসে জাহাজ থেকে অবরোহন করেন।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মে মাসের শুরুতে জাহাজে থাকা যাত্রীদের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সময় এখনই। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইজ্যাক বোগোচ জানিয়েছেন, ভাইরাসটির গড় ইনকিউবেশন পিরিয়ড বা লক্ষণ প্রকাশের সময়কাল প্রায় তিন সপ্তাহ, তবে এটি প্রকাশ পেতে সর্বোচ্চ ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এই কারণেই আক্রান্ত জাহাজ থেকে নামার পর যাত্রীদের কমপক্ষে ৪২ দিন পর্যবেক্ষণে রাখছে বিভিন্ন দেশের প্রশাসন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসটি সাধারণত ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়, তবে এই প্রমোদতরিতে এটি মানুষের থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি একটি বিরল রোগ যা প্রাথমিকভাবে সাধারণ ফ্লুর মতো অনুভূত হয় এবং এর ফলে ক্লান্তি, জ্বর, কাঁপুনি ও শরীরে ব্যথা হতে পারে। তবে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাস মানবদেহের হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস বা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে এবং এর ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও অঙ্গ বিকল হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *