ডেস্ক নিউজঃ নতুন ও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল GPT-6 অ্যাস্ট্রা উন্মোচন করেছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, কম্পিউটার ব্যবহার, সফটওয়্যার তৈরি, সাইবার নিরাপত্তা, বিজ্ঞান ও পেশাগত কাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি আগের মডেলগুলোর তুলনায় বেশি সক্ষম।

তবে নতুন এই মডেল নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। ওপেনএআই জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রা কিছু ক্ষেত্রে মানুষের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। এমনকি নিরাপত্তার দুর্বলতা খুঁজে বের করে সেগুলো কাজে লাগানোর উপায়ও এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি করতে পারে।

ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান বলেন, অ্যাস্ট্রা কম্পিউটারে মানুষ যে ধরনের কাজ করতে পারে, তার প্রায় সবই করতে সক্ষম। এমন সক্ষমতার কারণে এটিকে কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআইয়ের একটি সংস্করণ হিসেবে দেখাও যুক্তিসংগত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অ্যাস্ট্রা আগের GPT-5.6 Sol মডেলের চেয়ে দ্রুত ও দক্ষ। স্প্রেডশিট তৈরি, ওয়েবসাইট বানানো, সফটওয়্যার প্রকৌশল, সাইবার নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন পেশাগত কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে এটি।

তবে মডেলটির সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণও কঠিন হয়ে উঠছে। ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী জ্যাকব পাচকি বলেন, এআই মডেল যত বেশি সক্ষম হচ্ছে, তারা ঠিক কী করতে পারে তা বোঝাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।

অ্যাস্ট্রার সাইবার সক্ষমতার কারণে ওপেনএআই নিজেদের ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর আওতায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে। মডেলটির কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাড়তি নজরদারি ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রা প্রথমে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের জন্য তাদের ডেব্রেক প্রোগ্রামের অংশগ্রহণকারীদের কাছে উন্মুক্ত করা হয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে করপোরেট ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি চালু করা হবে।

অন্যদিকে, অ্যাস্ট্রার উন্নয়ন নিয়ে মানুষের এআই মডেলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা চলছে। ওপেনএআই বলছে, মডেলের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *