আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় জনপ্রিয় পর্যটন শহর গেলেনজিকের কাছে একটি ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে ৪৭ জন হতাহত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪০ জন।

নিহতদের মধ্যে তিনটি শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান। তিনি এ হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছেন।
তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

নৌঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলার সন্দেহ
স্থানীয় ও গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ড্রোনটির মূল লক্ষ্য সম্ভবত রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ নভোরোসিস্ক নৌঘাঁটি ছিল। এই নৌঘাঁটিটি গেলেনজিক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ড্রোনটি গেলেনজিকের কাছের আরখিপো-ওসিপোভকা এলাকার একটি ব্যস্ত সমুদ্রসৈকতে আঘাত হানে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিডিওর সত্যতা যাচাই
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো যাচাই করেছে বিবিসি ভেরিফাই।

সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিডিওর অবস্থান শনাক্ত (জিওলোকেশন) করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ঘটনাটি আরখিপো-ওসিপোভকা সৈকতেই ঘটেছে। এছাড়া সময়-সংক্রান্ত বিশ্লেষণ (রিসেন্সি চেক) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) পরীক্ষার মাধ্যমে ভিডিওগুলো সাম্প্রতিক এবং প্রকৃত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাড়ছে সীমান্তপারের ড্রোন হামলা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে ড্রোন হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে বলে মস্কোর দাবি।

অন্যদিকে ইউক্রেন সাধারণত নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করে না। ফলে গেলেনজিকের সমুদ্রসৈকতে সাম্প্রতিক এই হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল এবং কীভাবে বেসামরিক এলাকায় প্রাণহানি ঘটল, তা এখনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *