আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাচ্ছে। পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এমন প্রেক্ষাপটে চলমান এই সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা বাতিলের সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রশাসন বেশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কের আঙ্কারায় ৫৩ ঘণ্টার সফর করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সফর শেষে প্রায় ছয় ঘণ্টা আগে তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরেছেন। বুধবার সকালে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব বেশি কিছু জানানো হয়নি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধবিরতি এখন ‘শেষ’।

অন্যদিকে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ভিন্ন মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, চলমান এই সংঘাতের মধ্যেও আলোচনা চলতে পারে এবং তা চালিয়ে যাওয়া উচিত।

ওয়াশিংটন ডিসি থেকে সাংবাদিক মাইক হান্না জানান, এটা মনে রাখা দরকার যে, এই সংঘাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একচেটিয়া ক্ষমতা কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন খোদ রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্য। তাই চলমান এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই বাধা রয়েছে। এখন যেহেতু আর কোনো যুদ্ধবিরতি নেই, তাই ট্রাম্পের জন্য কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণকে বোঝানো বেশ কঠিন হতে পারে। কারণ, তিনি শুরুতে বলেছিলেন এই যুদ্ধ মাত্র তিন থেকে চার সপ্তাহ স্থায়ী হবে।

তাছাড়া, সামনেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান হামলার ধরন ও পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, ট্রাম্প যেন দ্রুত নিজের বিজয় ঘোষণা করে যুদ্ধ শেষ বলতে পারেন, সেজন্যই তড়িঘড়ি করে এই চুক্তিটি সাজানো হয়েছিল। তাই এই চুক্তির শর্তগুলো নিয়ে যে সংঘাত হবে, তা একরকম নিশ্চিতই ছিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব অবধারিত ছিল। আর এই হরমুজ প্রণালিই এখন নতুন করে সংঘাত বাড়ার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *