আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা শান্তি চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে আলোচনা চলছে, তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে দুই দেশ চুক্তির খুব কাছে পৌঁছে গেছে বলে যে দাবি উঠেছে, তাকে আপাতত ‘গুঞ্জন’ বলেই অভিহিত করেছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার যে প্রক্রিয়া চলছে, তা এখনো চূড়ান্ত কোনো পরিণতির দিকে যায়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা বা খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সব তথ্য উপযুক্ত সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হবে।” অর্থাৎ, গণমাধ্যমে চুক্তির ধারা বা শর্তাবলি নিয়ে যেসব তথ্য প্রকাশিত হচ্ছে, সেগুলোকে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেননি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এর মধ্যে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকবার সংঘাতের ঘটনা ঘটলেও, দুই দেশ কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রেখেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে সম্প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হলেও, ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে আলোচনার বর্তমান ধীরগতি ও সতর্ক অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে কোনো প্রকার আপস করার আগে বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চাইছে শর্তসাপেক্ষে (পারফরম্যান্স-ভিত্তিক) এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে। আব্বাস আরাগচির এই কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে ইরান মূলত বোঝাতে চেয়েছে যে, তারা চাপের মুখে বা তড়িঘড়ি করে কোনো চুক্তি করতে রাজি নয়।

সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের কূটনৈতিক দরকষাকষি যে এখনও অনেক দূর বাকি—ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য তারই প্রমাণ। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো দাবিকে নির্ভরযোগ্য মনে না করার আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *