আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো একদল ইতালীয় পর্যটকের মরদেহ উদ্ধারে নেমে মালদ্বীপে এক উদ্ধারকারী ডুবুরির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মালদ্বীপ সরকারের এক মুখপাত্র গতকাল শনিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানিয়েছেন, স্টাফ সার্জেন্ট মোহামেদ মাহদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখানেই তিনি মারা যান।

এর আগে বৃহস্পতিবার সমুদ্রের প্রায় ৫০ মিটার (১৬৪ ফুট) গভীরে গুহা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করতে গিয়ে ইতালির পাঁচ নাগরিকের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত তাদের একজনের মৃতদেহ মিলেছে, তাও সমুদ্রপৃষ্ঠের ৬০ মিটার নিচে এক গুহায়। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু শনিবার বাকি ইতালীয় নাগরিকদের মৃতদেহ উদ্ধার অভিযান দেখতে ভাভু প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় যান।

“আট উদ্ধারকারী ডুবুরি আজ পানিতে নেমেছিলেন। তারা যখন ভেসে ওঠেন, বুঝতে পারেন যে মাহদি ফিরে আসেনি,” বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন মালদ্বীপ সরকারের মুখপাত্র মোহামেদ হোসেইন শরিফ।

অন্য উদ্ধারকারী ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে সমুদ্রের তলদেশে যান এবং সেখানে মাহদিকে অচেতন অবস্থায় পান। মালদ্বীপের সামরিক বাহিনী আগেই বিরূপ আবহাওয়ায় সমুদ্র তলদেশে এই উদ্ধার অভিযানকে ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছিল।

মাহদির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি। যে পাঁচ ইতালীয় কেভ ডাইভে নেমে মারা গেছেন তাদের চারজনই জেনোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের অংশ। এরা হলেন- অধ্যাপক মনিকা মন্টিফেলকোন ও তার মেয়ে এবং দুই তরুণ গবেষক। এর বাইরে যে ইতালিয়ান মারা গেছেন তিনি নৌযান পরিচালনা ব্যবস্থাপক ও ডাইভিং প্রশিক্ষক।

এ পাঁচজনই বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালের দিকে ভাভু দ্বীপপুঞ্জের কাছে সমুদ্রে নেমেছিলেন; অনেকক্ষণ পরও তারা ভেসে না ওঠায়, তাদেরকে ডাইভিংয়ে নিয়ে যাওয়া নৌযানের ক্রু’রা ৫ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেন।

রাজধানী মালে-র প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ওই এলাকার আবহাওয়াও সেসময় বিরূপ ছিল এবং যাত্রীবাহী নৌকা ও জেলেদের জন্য ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছিল, বলছে পুলিশ।

শরিফ বলছেন, বেড়াতে আসা স্কুবা ডাইভারদের কেবল সমুদ্রের ৩০ মিটার গভীর পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এই ইতালীয়রা কী করে ৬০ মিটার নিচের গুহায় গিয়েছিলেন তা পরিষ্কার নয়।

এর আগে ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যে ডিউক অব ইয়র্ক ইয়ট থেকে ওই ৫ জন সমুদ্রে নেমেছিলেন, সেখানে ইতালির আরও ২০ নাগরিক ছিলেন। তারা অক্ষত আছেন এবং শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অবস্থিত ইতালি দূতাবাস তাদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *