ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়গুলোর একটি উপহার দিয়েছে কুরাসাও। এবার তাদের লক্ষ্য আরও বড়, আইভরি কোস্টকে হারিয়ে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে টিকে থাকা।

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসে শক্তিশালী ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটি।

ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক এলোয় রুম। একাই ১৫টি সেভ করে গড়েছেন বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড। অতিরিক্ত সময় ছাড়া কোনো বিশ্বকাপ ম্যাচে এর আগে কোনো গোলরক্ষক এত সেভ করতে পারেননি। তার অসাধারণ নৈপুণ্যে পাওয়া এক পয়েন্ট কুরাসাও শিবিরে আত্মবিশ্বাসের জোয়ার এনে দিয়েছে।

কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকাট মনে করেন, ইকুয়েডরের বিপক্ষে পাওয়া ফল প্রমাণ করেছে তার দল যেকোনো প্রতিপক্ষকে ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় ড্রই ছিল সঠিক ফল। যদিও তারা আমাদের চেয়ে বেশি সুযোগ তৈরি করেছিল। তবে এই ম্যাচ প্রমাণ করেছে, আমরা যেকোনো দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ হতে পারি।’

৭৮ বছর বয়সী এই ডাচ কোচের মতে, শুধু রক্ষণ সামলানো নয়, আক্রমণেও নিজেদের সামর্থ্যের পরিচয় দিয়েছে তার দল। মজার ছলে অ্যাডভোকাট বলেন, ‘ম্যাচের আগে বলেছিলাম, সম্ভবত এটাই হবে প্রথম ম্যাচ যেখানে আমরা ফেবারিট। অবশ্যই আমি মজা করেছি।’

এরপর তিনি যোগ করেন, ‘এটি খুব কঠিন ম্যাচ হবে। আমরা তিনটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলছি। তবে কুরাসাওয়ের জন্য এমন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়াটাও দারুণ ব্যাপার। ইকুয়েডরের বিপক্ষে আমরা দেখিয়েছি, আমরা শুধু রক্ষণ করি না, আক্রমণের সঠিক মুহূর্তও খুঁজে নিতে পারি। আগামী ম্যাচেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করব।’

ইকুয়েডরের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় রক্ষণ সামলানোর পর খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো উদ্বেগ দেখছেন না অ্যাডভোকাট, ‘আমার মনে হয় ছেলেরা ভালো আছে। তারা ফিট আছে এবং ক্লান্তও নয়। অনুশীলনে আমি তাদের মধ্যে অনেক শক্তি দেখতে পাচ্ছি। আগামী ম্যাচে সেই শক্তির প্রয়োজন হবে।’

অন্যদিকে কুরাসাও-জন্ম নেওয়া ফরোয়ার্ড তাহিথ চংও দলটির ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া এবং বেড়ে ওঠা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে গড়া এই দলকে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতে রাজি নন তিনি, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি বারবার এই বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে দিতে ক্লান্ত। আমি বাকি ২৫ জন খেলোয়াড়কে নিজের ভাই মনে করি। আমরা একটি দল হিসেবে, একটি পরিবার হিসেবে ভালো কিছু করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তাদের সবাইকে কুরাসাওয়ের খেলোয়াড় হিসেবেই দেখি। বাইরের মানুষ আমাদের কীভাবে দেখে, তা নিয়ে আমরা ভাবি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *