আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে মুসল্লিরা মসজিদে জড়ো হওয়ার সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, কোহাটের একটি পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরে থাকা মসজিদের কাছে বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ওই এলাকায় গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। হামলায় নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ কমপ্লেক্সের প্রবেশপথের দিকে নিয়ে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর সশস্ত্র হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিনিময় শুরু হয়। হামলার ঘটনায় পুলিশ কমপ্লেক্স ও মসজিদের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

হামলার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পৌঁছে যায়। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত ও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা ২১ জনে পৌঁছায় এবং আহতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২৭ জন বলে জানানো হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার দায় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এক প্রতিবেদনে হাফিজ গুল বাহাদুর নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন নামের একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকার করেনি এবং পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে। ফলে হামলার দায় নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কোহাট আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত বেড়েছে। এর মধ্যেই পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতরের মসজিদে হামলার ঘটনা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং উদ্ধার তৎপরতা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

শুক্রবারের নামাজের আগে মুসল্লিদের উপস্থিতির সময় এমন হামলায় হতাহতের ঘটনায় কোহাটজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি এখনও উন্নয়নশীল। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও হামলার দায় সংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তিত হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *