ক্রীড়া ডেস্ক : প্রায় দুই যুগ পর অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ফিরছে টেস্ট ক্রিকেট। বৃহস্পতিবার নর্দার্ন টেরিটরির মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য প্রতিপক্ষের পাশাপাশি আলোচনায় থাকছে মাঠের অদ্ভুত এক পিচ ‘ড্রপ-ইন স্প্লিট পিচ’।

বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় শুরু হবে ম্যাচটি। ডারউইনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উপস্থিতি খুব একটা নিয়মিত নয়। ২০০৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর এই মাঠে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়নি। ২০০৪ সালের পর সেখানে আর কোনো টেস্টও অনুষ্ঠিত হয়নি।

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্প্লিট পিচে। সেই সিরিজ থেকেই এই বিশেষ ধরনের পিচ ব্যবহারের শুরু। দুই দশকেরও বেশি সময় পর এবারও একই ধরনের পিচে খেলবে বাংলাদেশ।

কী এই ‘স্প্লিট পিচ’?
ড্রপ-ইন পিচ সাধারণত মাঠের বাইরে তৈরি করে পরে বড় ক্রেনের সাহায্যে মাঠে এনে নির্ধারিত জায়গায় বসানো হয়। ডারউইনের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি আরও কিছুটা ভিন্ন। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে পুরো ২২ গজের পিচ একসঙ্গে মাঠে আনা সম্ভব হয় না।

তাই বাইরে প্রস্তুত করা পূর্ণদৈর্ঘ্যের পিচকে দুই ভাগে কেটে আলাদা করে মাঠে আনা হয়। এরপর পিচের নির্ধারিত স্থানে দুটি অংশ পাশাপাশি বসিয়ে দেওয়া হয়। এ কারণেই কাছ থেকে দেখলে পিচের মাঝখানে দুটি অংশের সংযোগস্থলের একটি দৃশ্যমান রেখা দেখা যায়।

তবে এই রেখা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন ডারউইনের প্রধান কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ। তাঁর দাবি, পিচ দুই টুকরো হলেও এর আচরণে কোনো পার্থক্য থাকবে না।

পাভলিচ বলেন, স্প্লিট পিচের কারণে ম্যাচের খেলায় কোনো প্রভাব পড়বে না। এটি মূলত পিচ প্রস্তুত ও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে বাড়তি কিছু কাজের বিষয়।মাঠে আনার আগে পিচটি দুই ভাগে কাটা হলেও মাঠে বসানোর পর সেটিকে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের পিচ হিসেবেই প্রস্তুত করা হয়।

তাঁর ভাষায়, পিচ কম্পাউন্ড বা মূল মাঠে নেওয়ার পর দুটি অংশকে নিখুঁতভাবে জোড়া লাগিয়ে পূর্ণ দৈর্ঘ্যের পিচ হিসেবে তৈরি করা হয়। বাইরে প্রস্তুত করার সময় প্রায় ১০ মাস ধরে পুরো পিচের যত্ন নেওয়ার পর সেটিকে দুই ভাগে কাটা হয়।

তবে পিচের মাঝখানে দৃশ্যমান রেখা থাকা কিছুটা হতাশাজনক বলেও জানিয়েছেন প্রধান কিউরেটর। তাঁর দাবি, রেখাটি সম্পূর্ণ সমতল এবং সেখানে বল পড়ে অস্বাভাবিক আচরণ করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

ম্যাচের আগে উইকেটের আচরণ নিয়ে খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে যেতে চান না ডারউইনের কিউরেটররা। পাভলিচের প্রত্যাশা, এটি হবে ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো এবং ধারাবাহিক একটি পিচ।

তবে বোলারদেরও কঠোর পরিশ্রম করে উইকেট থেকে সুবিধা আদায় করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। একই সঙ্গে ম্যাচ যত এগোবে, বিশেষ করে চতুর্থ বা পঞ্চম দিনে উইকেটের আচরণ কেমন হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন পাভলিচ।

কারণ, এই ধরনের দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচে ডারউইনের স্প্লিট পিচের অভিজ্ঞতা খুবই সীমিত। তাই ম্যাচ শুরু হওয়ার পরই উইকেটের প্রকৃত চরিত্র সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর ডারউইনে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন যেমন বিশেষ ঘটনা, তেমনি ‘দুই টুকরো’ ড্রপ-ইন পিচে বাংলাদেশের খেলা যোগ করছে বাড়তি কৌতূহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *