ডেস্ক নিউজঃ দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবা সচল রাখতে সাত দফা জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল টিম গঠন, জরুরি ওষুধ ও স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত, অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সরবরাহ, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি ভার্চুয়াল সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন), পরিচালক (প্রশাসন), সব বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) এবং দেশের সব সিভিল সার্জন অংশ নেন।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ফোকাল পারসন নিয়োগ দিতে হবে। তাঁরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখবেন। একই সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তাঁদের মোবাইল নম্বর সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি আক্রান্ত উপজেলা ও জেলায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক মেডিকেল টিম গঠন করতে হবে। পাশাপাশি সব ধরনের জরুরি ওষুধ, ওআরএস বা স্যালাইন এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অ্যান্টি-স্নেক ভেনম সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রসূতিদের হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ কাজে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো, বন্যাকবলিত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের ছুটি বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

এ ছাড়া বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য নেওয়া স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং ও প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে জানাতে বলা হয়েছে। আগামী ১২ জুলাই বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিভাগের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে জরুরি প্রেস ব্রিফিং আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় পরিচালকদের (স্বাস্থ্য) ওপর অর্পণ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *