ডেস্ক নিউজঃ কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের রাশিয়ায় পাঠানোর পর ইউক্রেন যুদ্ধে সম্পৃক্ত করার অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছে সরকার। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজের কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো ৩০ জন বাংলাদেশিকে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে তাদের পরিবার সরকারের কাছে অভিযোগ করেছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িত অনেক বাংলাদেশি সরাসরি বাংলাদেশ থেকে যাননি; তারা তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে সেখানে গেছেন। এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় সীমিত।

এদিকে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেছেন। আশা করা হচ্ছে, শিগগিরই দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সহজ হবে।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বন্ধ বা সীমিত শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ১৮টি দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হক বলেন, বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ কারণে বিদেশ থেকে পাঠানো চাহিদাপত্র যাচাই-বাছাই ও মনিটরিং আরও জোরদারের প্রয়োজন রয়েছে।

বিদেশগামী দরিদ্র কর্মীদের জন্য বিনা সুদে ঋণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ঋণের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকায় উন্নীত করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। তবে এখনো বিনা সুদে ঋণ দেওয়ার কোনো সরকারি কর্মসূচি চালু হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *