ক্রীড়া ডেস্কঃ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে করা অভিযোগে সমর্থন জানিয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠতা এবং কয়েকটি বিতর্কিত ঘটনায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দায়িত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।

‘রিবুট ফিফা’ নামের একটি প্রচারণার উদ্যোগে এই অভিযোগ করা হয়েছে। বিশ্বকাপের আগে শুরু হওয়া এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল ফিফার পরিচালনা ও শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অভিযোগপত্র তৈরি করা।

মঙ্গলবার ফিফার নৈতিকতা কমিটির কাছে নতুন করে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে দেওয়া চিঠিতে ‘ফেয়ার স্কয়ার’ নামের একটি অধিকারভিত্তিক সংগঠন কমিটিকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ইনফান্তিনোর কর্মকাণ্ডে ফিফা সভাপতির ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার দায়িত্বে ব্যর্থতা এবং দায়িত্বের প্রতি আনুগত্যের ঘাটতির প্রমাণ রয়েছে। অভিযোগের পক্ষে আটটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের ঘটনা। ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ফিফাকে ওই লাল কার্ড পর্যালোচনার অনুরোধ করেছিলেন। এ ছাড়া ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রকল্প নিয়ে বিতর্ক, ট্রাম্পকে ফিফার শান্তি পুরস্কার দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এ ইনফান্তিনোর সম্পৃক্ততার বিষয়ও অভিযোগে স্থান পেয়েছে।

অভিযোগকারীরা আরও বলেছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করে ‘আমেরিকাকে মহান করার পাশাপাশি পুরো বিশ্বকে মহান’ করার বিষয়ে ইনফান্তিনোর বক্তব্যও তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা দেওয়া হলেও ফিফার নৈতিকতা কমিটি এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার নতুন অভিযোগটি নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশন এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ৫০ জন সদস্যের সমর্থন পেয়েছে।

এদিকে ফিফা অভিযোগগুলোকে সংগঠনটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফিফার ভাষ্য, সদস্য ফেডারেশনগুলোর সমর্থন না পাওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, ইঙ্গিত বা ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো ফল অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়।

চলমান বিতর্কের মধ্যেই আগামী বছর ফিফা সভাপতির পদে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইনফান্তিনো। তার পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়ে উয়েফাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *