আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম শুক্রবার এক দিনেই ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি তেলের ট্যাংকার ঘুরিয়ে দেওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সদ্য সমাপ্ত জুলাই মাসে তেলের বাজার গত মার্চের পর সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধির রেকর্ড করেছে।

শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০.১২ ডলারে এবং ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৪.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। শুধু জুলাই মাসেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২১ শতাংশ বেড়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘গেলবার অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর মতে, হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ পথে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি এখনও প্রবল। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের বাণিজ্যিক মজুত ২০১৮ সালের পর এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ইরানের ‘ফারস নিউজ’ জানিয়েছে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস সম্প্রতি দুটি ট্যাংকার আটকে দিয়েছে এবং আরও চারটি পথ বদলাতে বাধ্য হয়েছে। শুক্রবার মাত্র দুটি বড় ক্রুড ক্যারিয়ার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হুমকি দিচ্ছে। এর জেরে ওই অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে জোট গঠনের চেষ্টা করছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার ২৯টি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেছে।

হরমুজ প্রণালির যৌথ ব্যবস্থাপনার প্রস্তাব তেহরান প্রত্যাখ্যান করলেও ওমানের সাথে তাদের আলোচনা চলমান রয়েছে। তবে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও সংঘাত বাড়ছে। শুক্রবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে হামলার কারণে সুয়েজ খালের জাহাজ চলাচলও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব সংকটের মাঝেও কাজাখস্তান দীর্ঘ সময় পর জর্জিয়ার বাতুমি বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়ীরা এখন যুদ্ধের চেয়ে জাহাজ চলাচলের তথ্যের ওপর বেশি নজর রাখছেন। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদন ২ শতাংশ কমলেও রপ্তানি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো রেকর্ড গড়েছে। অন্যদিকে, দাম বাড়ায় মে মাসে তেলের বৈশ্বিক চাহিদা সাড়ে ৩ শতাংশ কমেছে। রয়টার্সের এক জরিপে বলা হয়েছে, চলতি বছর তেলের দাম আরও বাড়বে এবং ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম হবে ৮৫.২২ ডলার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *