আন্তর্জাতিক ডেস্ক : উপকূলের দিকে এগোচ্ছে টাইফুন নউল। এতে চীনের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেল চলাচলও স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার সকালের মধ্যে হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশ পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় টাইফুনটি আঘাত হানতে পারে। শনিবারও আবহাওয়া কেন্দ্র চার স্তরের সতর্কতা ব্যবস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর বহাল রেখেছে। এর আগে তারা জানিয়েছিল, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু অংশে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানায়, শুক্রবার রাত পর্যন্ত গুয়াংডং প্রদেশে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সাগরে থাকা মাছধরার নৌকাগুলোও ঝড় এড়াতে বন্দরে ফিরে এসেছে। শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ের কয়েকটি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। রোববার পুরো প্রদেশে ট্রেন পরিষেবা স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গুয়াংডংয়ের চাওঝৌ শহরের স্কুলগুলোতে সব ধরনের শিক্ষা ও অন্যান্য কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চরম আবহাওয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন মায়সাকের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। মায়সাকের প্রভাবে হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রবল বাতাসে আরও ১১ জন নিহত এবং ৩৩১ জন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়তে থাকায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। চীন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এটি অন্যতম শীর্ষ শক্তি। ২০৬০ সালের মধ্যে অর্থনীতিকে কার্বন-নিরপেক্ষ করার লক্ষ্য নিয়েছে বেইজিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *