আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলি বন্দিশালায় ফিলিস্তিনিদের কোনো নাম বা পরিচয় থাকে না, তাদের কেবল একটি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। সেখানে বন্দিদের সার্বক্ষণিক চোখ কালো কাপড়ে বাঁধা এবং হাত-পা শিকল দিয়ে আটকে রাখা হয়। সামান্য নড়াচড়া করলেই তাদের ওপর হিংস্র কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয় কিংবা রক্ষীদের মারধরের শিকার হতে হয়।

বন্দিশালার ভেতরের অস্থায়ী হাসপাতালে আহত ও অসুস্থ বন্দিদের সম্পূর্ণ নগ্ন করে লোহার বিছানার সাথে বেঁধে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের জিপ-টাই বা শক্ত তার দিয়ে হাত-পা বাঁধার কারণে অনেকেরই পচন ধরে যায়।

অভিযোগ রয়েছে যে, অভিজ্ঞতাহীন বা শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের দিয়ে কোনো অবশ করার ওষুধ বা অ্যানেস্থেসিয়া ছাড়াই বন্দিদের হাত-পা কেটে ফেলা বা অঙ্গচ্ছেদ করা হতো। সিএনএন শুধু ইসরায়েলি তথ্যদাতাদের ওপরই নির্ভর করেনি বরং সেখান থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কয়েকজন বন্দির সাক্ষাৎকারও নিয়েছে। তাদেরই একজন গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ আল-রান জানান, তাদের মানুষের চেয়েও অধম পশুর মতো বিবেচনা করা হতো।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে দাবি করেছে যে তারা আইন অনুযায়ী বন্দিদের দেখাশোনা করে। তবে তারা বন্দিদের নগ্ন রাখা বা ডায়াপার পরিয়ে রাখার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেনি।

উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ‘সেদে তেমান’ মরুভূমির ক্যাম্পে ১০০টিরও বেশি নতুন কাঠামো ও বিশাল তাবু তৈরি করে বন্দিশালার পরিধি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে সম্পূর্ণ গোপনে বন্দি রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *