ডেস্ক নিউজ : চামড়া শিল্পকে দেশের অন্যতম প্রধান বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয়কারী খাত হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার দুপুরে সিলেট নগরীর রিকাবীবাজারের জিমনেসিয়াম হলে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশের চামড়া খাতের বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই শিল্পের উন্নয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিকবার ফলপ্রসূ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে এ খাতটি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দেবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরকারের সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র আড়াই মাস এবং এ স্বল্প সময়ের মধ্যে বড় কোনো আমূল পরিবর্তন সম্ভব না হলেও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের কাজ পুরোদমে চলছে। তিনি চামড়া শিল্পের উন্নয়নে জনসাধারণের কাছে কিছুটা সময় প্রার্থনা করেন এবং পর্যায়ক্রমে এ খাতের উন্নতির প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

শিল্প রক্ষায় জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চামড়া দেশের একটি অমূল্য সম্পদ এবং এটি যেন কোনোভাবেই অপচয় বা নষ্ট না হয় সেদিকে আমাদের সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। সম্পদ সংরক্ষণে প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতার মাঝে কোনো ধরনের অপচয় কাম্য নয়।

বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা পুনরায় চালু করার বিষয়েও অনুষ্ঠানে আশার বাণী শোনানো হয়। জানানো হয়, দেশের শিল্প খাতে বিশেষ করে বন্ধ কলকারখানাগুলোতে বিনিয়োগের ব্যাপারে চীন সরকার ও বিনিয়োগকারীরা গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমান সরকার এই শিল্পগুলোকে একটি সুশৃঙ্খল পর্যায়ে নিয়ে আসার কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। কলকারখানাগুলো পুনরায় সচল করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে অনুষ্ঠানে উল্লেখ করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তাধারা ও নতুন নতুন উদ্ভাবন নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারে এ ধরনের আয়োজন তরুণ প্রজন্মকে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ করে তুলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএম সরওয়ারউদ্দীন চৌধুরী ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মেলায় আগত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই আয়োজনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা প্রদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *