আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে গত মাসে কার্যকর হওয়া তথাকথিত ‘যুদ্ধবিরতির’ মধ্যেও ইসরাইলি হামলায় শিশুদের হতাহতের সংখ্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন আজ মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর প্রথম ২৫ দিনে গড়ে প্রতিদিন ৪টিরও বেশি শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, এই অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্তত ২২ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ৮৯ জন গুরুতর আহত হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ শিশু নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের মোট সংখ্যা প্রায় ২,৯০০ জনে দাঁড়িয়েছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের লেবানন পরিচালক নোরা ইংডাল বলেন, বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা আসলে বন্ধ হয়নি, বরং ভিন্ন নামে তা অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকায় বিমান হামলার তীব্রতা আগের চেয়েও বেড়েছে। শিশুদের জীবন রক্ষায় কোনো শর্তহীন এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিকল্প নেই বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ইসরাইলি বিমান বাহিনী দাবি করেছে, তারা এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত লেবাননের ১,১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তবে এই সংঘাতের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে সাধারণ পরিবারগুলো। সংঘাতের কারণে এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বর্তমানে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষ গাদাগাদি করে বসবাস করছে, যার মধ্যে ৩৬ শতাংশই শিশু। এসব কেন্দ্রে অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ও তীব্র ভিড়ের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি শান্তি আলোচনার কথা রয়েছে। উভয় দেশই হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিশ্রুতি দিলেও হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদের অস্ত্রসমর্পণ আলোচনার কোনো অংশ হতে পারে না।

ফলে আসন্ন এই বৈঠক থেকে কতটুকু সুফল আসবে এবং শিশুদের ওপর চলা এই নৃশংসতা বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

সূত্র: আল-জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *