আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা অভিবাসীদের জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন ও জটিল হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন অভিবাসন নীতিতে আমূল পরিবর্তন এনে এক নতুন কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে।

নিউইয়র্ক টাইমস পর্যালোচিত ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ নথি অনুযায়ী, এখন থেকে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা ইসরায়েলের কড়া সমালোচনা করা ব্যক্তিদের গ্রিন কার্ডের আবেদন সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

অভিবাসন কর্মকর্তাদের দেওয়া এই নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যদি কোনো আবেদনকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরায়েল বিরোধী কোনো পোস্ট দেন কিংবা মার্কিন পতাকার অবমাননা করেন, তবে সেটিকে তাদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথে বড় বাধা হিসেবে গণ্য করা হবে।
২০২৫ সালের আগস্টে জারি করা এক আদেশের ভিত্তিতে এই ‘মতাদর্শিক যাচাই’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যারা ‘আমেরিকা বিরোধী’ বা ‘ইহুদি বিরোধী’ মনোভাব পোষণ করে, তাদের এই দেশে বসবাসের কোনো অধিকার নেই। নতুন এই নীতিমালার আওতায় ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিহাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এমনকি ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী মিছিলে যোগ দেওয়া বা ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাস বন্ধ করো’ সম্বলিত পোস্টকেও অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে গত কয়েক মাসে গ্রিন কার্ড অনুমোদনের হার প্রায় অর্ধেক নেমে এসেছে বলে জানা গেছে।

সরকারের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা। তাদের মতে, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন সিদ্ধান্ত নেওয়া আমেরিকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তারা অভিযোগ করছেন, বর্তমান প্রশাসন ইসরায়েল সরকারের নীতির বিরোধিতা করা এবং সেমেটিক বিদ্বেষের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার ঢাল হিসেবে দেখছেন। তাদের সাফ কথা, আমেরিকার প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের স্ক্রিনিং অপরিহার্য। এই নতুন কড়াকড়ির ফলে বর্তমানে হাজার হাজার অভিবাসীর ভবিষ্যৎ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *