ডেস্ক নিউজঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ গার্মেন্টস শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে শোকের মাতম চলছে। নিহত সবার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে কবর খননের কাজ চলছে। দুপুর বেলা বাদ যোহর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হবে।

গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নিজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪), প্রতিবেশী নার্গিস আক্তার (৪২), তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরব এবং নিরবের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি দোলা বেগম (৪৫)। নিহত নার্গিস আক্তার ওই গ্রামের হামিদুজ্জামানের স্ত্রী। তারা সবাই সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয় এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ধলাটেংগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে তারা যখন গল্পে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। রেললাইনে বসে থাকা যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও দুই নারীসহ পাঁচজন প্রাণ হারান।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, মৃতরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য ছিলেন। কাজের সন্ধানে তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের চিরতরে স্তব্ধ করে দিল। প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও। ঘাতক ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই গ্রামের পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *