আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালে এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খোদ আমেরিকা। গত সপ্তাহান্ত জুড়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং শিকাগোসহ অন্তত ৫০টি প্রধান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই যুদ্ধের অবসান দাবি করেছেন।  

বিক্ষোভকারীরা ‘ইরান থেকে হাত সরাও’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবাজ নীতির তীব্র নিন্দা জানান। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ইউনিয়ন স্কয়ারে সমবেত কয়েকশ বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন যে, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসন। তারা দাবি করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় না করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হোক।

নিউইয়র্কে বিক্ষোভ অংশ নেওয়া মায়া নামের এক আন্দোলনকারী সিনহুয়াকে বলেন, এটি একটি অন্যায় যুদ্ধ এবং মূলত অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড দখল ও সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যখন আমেরিকার সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জনস্বাস্থ্য, শিশু যত্ন এবং গণপরিবহনের উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্য এক বিক্ষোভকারী ম্যাগি মোরালেস বলেন, এই যুদ্ধ কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করছে, যা পুরো দেশকে আরও বেশি বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে অন্য দেশে হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত সপ্তাহে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ শুরু করে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে আসা আন্দ্রে ইস্টন তার বক্তৃতায় বলেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এই রক্তপাত বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় পক্ষই কংগ্রেসে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কেবল বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এই যুদ্ধ মেশিনকে থামাতে পারে। বক্তারা হোয়াইট হাউসের এই সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যকে এক অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসেও, যেখানে সিটি হলের সামনে কয়েকশ মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমবেত হন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘ইরানে বোমাবর্ষণ একটি অপরাধ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বিক্ষোভকারী বলেন, এই যুদ্ধ মূলত ‘এপস্টাইন ফাইল’ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই শুরু করা হয়েছে এবং এতে অকারণে অগণিত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তিনি বিশ্ববাসীকে এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। আমেরিকার উপকূল থেকে উপকূলে ছড়িয়ে পড়া এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা তাদের সরকারের যুদ্ধংদেহী অবস্থানকে মেনে নিতে পারছেন না এবং অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: জিনহুয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *