বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-র কিছু কর্মচারীর পদোন্নতি ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়োগ বিধি লঙ্ঘন, আদালতের ভুল রায়কে কাজে লাগানো এবং ঘুষের মাধ্যমে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই অনিয়মের ফলে প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমসহ কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হলেও সরকারের ক্ষতি হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, এলজিইডির বিভিন্ন পদের ২৪ জন কর্মচারী নিজেদের উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতির দাবিতে ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। মামলার প্রথম ও শেষ শুনানির তারিখের মধ্যে অসংগতি থাকায় রায়ের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। রায়ে বলা হয়েছিল তাদের চাকরি রেভিনিউ খাতে নিতে হবে, অথচ অধিকাংশের চাকরিই শুরু থেকেই রেভিনিউ খাতে ছিল।

ওই গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন আব্দুল ওহাব। ২৪ জনের মধ্যে কেউ অবসরে গেছেন, কেউ মারা গেছেন—তবে বেঁচে থাকা ১২ জন এই রায়ের অপব্যবহার করে পদোন্নতির জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। ২০১২ সাল থেকে ১৬ জন প্রধান প্রকৌশলী এলজিইডিতে দায়িত্ব নিলেও কেউ এই বিতর্কিত রায় বাস্তবায়ন করেননি। কিন্তু চলতি বছরে ওহাব গ্রুপ বড় অঙ্কের ঘুষের তহবিল গড়ে পদোন্নতির জন্য জোরালো তদবির শুরু করে।

সূত্র দাবি করে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রশীদ মিয়াকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়। তিনি ফাইল মুভ করলেও প্রশাসন শাখার কিছু কর্মকর্তা ভুল রায় বাস্তবায়নের ফাইলে স্বাক্ষর না করায় প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের সময়ও প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর ওহাব গ্রুপ নতুনভাবে তৎপর হয়। সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী (প্রশাসন) শফিকুর রহমানের সঙ্গে আব্দুল ওহাবের কথিত দেড় কোটি টাকার চুক্তি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই ঘুষের এক কোটি টাকা দেওয়া হয় প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে, ৩০ লাখ নেন শফিকুর রহমান এবং ২০ লাখ নেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সাইফুল কবির।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, ১২ জন সদস্য ২০০৬ সাল থেকে উপসহকারী প্রকৌশলীর বেতন স্কেলে বকেয়া সুবিধা পাবেন। যদিও আদালতের রায়ে ‘ইফেকটিভ ডেট’ সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা ছিল না। এই বেতন–বকেয়ার কারণে সরকারের বাড়তি ক্ষতি হবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের বিনিময়ে অন্যদের মতো তাদেরও অতীত থেকে বকেয়া বেতন অনুমোদন করানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

এলজিইডির ২০০৯ সালের নিয়োগ বিধিতে স্পষ্ট বলা আছে—সার্ভেয়ারদের ১৫ বছর এবং কার্য সহকারীদের ২০ বছর চাকরি পূর্ণ হলে বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাপেক্ষে তারা পদোন্নতি পেতে পারে। কিন্তু কমিউনিটি অর্গানাইজার বা স্টোর কিপার কখনোই টেকনিক্যাল পদে (উপসহকারী প্রকৌশলী) উন্নীত হতে পারে না। কোনো কোর্ট, কমিটি বা কর্তৃপক্ষের বিধি অমান্য করার এখতিয়ার নেই।

এলজিইডির সাবেক দুই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এবং বর্তমান কয়েকজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জানান, এই পদোন্নতি সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং নিয়োগবিধি পরিপন্থী। তাই প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম, শফিকুর রহমান, সাইফুল কবিরসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *