বিশেষ প্রতিবেদকঃ কক্সবাজারে যোগদানের পর থেকেই এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খানকে ঘিরে একের পর এক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, মামুন খান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অসঙ্গতি নিয়মে পরিণত হয়েছে। ঢাকায় ফ্ল্যাট, পটুয়াখালীতে আধুনিক বাড়ি, ধানি জমি, ঢাকার অদূরে বাগানবাড়ি আর দামি গাড়ি—সব মিলিয়ে তার বিত্তবৈভব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩–২৪ অর্থবছরের সম্পন্ন ও চলমান কাজের বিস্তারিত তথ্য চাইলে মামুন খান সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন সেনা সদস্যের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং পরে গুলিস্তান আর্মি ক্যাম্পের কর্নেল আফজালুর রহমান পরিচয়ে একটি দলের সদস্যরা এসে এক পত্রিকার রিপোর্টার এম শাহীন আলমকে খুঁজে হয়রানি করেন। পত্রিকার সম্পাদক জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে মোবাইলে ক্যাম্পে গিয়ে দেখা করার জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, অথচ কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে জানানো উচিত ছিল। তার দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান নিজের অনিয়ম ঢাকতেই সেনাবাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে চাপ তৈরির চেষ্টা করেছেন।

সরেজমিনে জানা যায়, সেন্টমার্টিনে বঙ্গবন্ধু সড়কের উন্নয়নকাজে ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার ইউনিব্লক বসানোর কথা থাকলেও সেখানে নিম্নমানের ইটের কণা ও সাগরের বালু মিশিয়ে তৈরি ব্লক বসানো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে প্রকৌশলী মামুন খান নিম্নমানের কাজ করিয়ে অর্থ লুটপাট করেছেন এবং প্রকৃত কাজের তুলনায় অধিকাংশ অর্থ ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে। কাজের গরমিল ধামাচাপা দিতে এখন নানা অজুহাত খোঁজা হচ্ছে।

উখিয়া, কুতুবদিয়া, চকরিয়া—সব জায়গায়ই রাস্তা, ছোট সেতু, কালভার্ট ও আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উখিয়ায় রাস্তার তিন লেয়ারের বদলে দুই লেয়ার কাজ করেই ঠিকাদাররা বিল পেয়েছেন, যার পেছনে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর যোগসাজশ রয়েছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া মামুন খান নিয়ম ভেঙে বারবার কক্সবাজার থেকে ঢাকা যাতায়াত করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এলজিইডির একজন কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন—মাসিক বেতন ভাতা দিয়ে কীভাবে সপ্তাহে কয়েকবার বিমান ভ্রমণ সম্ভব? কক্সবাজার বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজেই এসব যাতায়াতের প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সকল কাজ বাস্তবায়িত বা বাস্তবায়নাধীন এবং সরেজমিনে গেলে প্রকৃত অবস্থা দেখা যাবে। অন্যান্য অভিযোগকে তিনি মনগড়া বলে দাবি করেন।

বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, সম্প্রতি মামুন খানকে বদলি করে প্রধান কার্যালয়ে এমনভাবে রাখা হয়েছে যেখানে তার নিজস্ব কোনো চেয়ার–টেবিলও নেই। পাশাপাশি তিনি ক্ষমতাশালী মহলের মাধ্যমে নিজের পছন্দের স্থানে বদলি পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *