
বিশেষ প্রতিবেদকঃ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মো. আবুল বাশার এবার ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন। কিন্তু তার এই সফর নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে, কারণ বর্তমান মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই তাকে প্রতিনিধিদলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তালিকায় তার নাম যুক্ত করেছেন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমানে নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান মহাপরিচালক শফিউল বারী নির্বাচনী প্রচারণায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না—এমন যুক্তিতে পুরোনো ডিজি মাকসুদকে বিশেষ আগ্রহে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি এখনো নৌপরিবহন উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে নৌসেক্টরে প্রভাব বজায় রেখেছেন, এমন মন্তব্যও রয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। অন্যদিকে আবুল বাশারসহ বাকি দল ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
এদিকে আবুল বাশারকে ঘিরে বহুদিন ধরেই নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষায় ঘুষ নিয়ে পাস করানো, প্রকল্পের বিল আটকে অর্থ আদায়, কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে কমিশন নেয়া, পিজি আটকে রেখে টাকা দাবি, অডিট খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়—এরকম একাধিক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। এসবের মধ্যে একটি বিভাগীয় মামলার তদন্তও চলছে। এমনকি তিনি নিজের শ্যালককে নিয়ম ভেঙে কন্ট্রাক্টরি কাজ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সতর্ক সূত্র বলছে, তিনি প্রায়ই বিভিন্ন স্টার হোটেলের বার ও স্পা সেন্টারে সময় কাটান এবং মদ্যপ হয়েই বের হন—যা সরকারি চাকরির বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। গত পাঁচ বছরে এমন আচরণের জন্য কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি মার্চেন্ট ও ইনল্যান্ড পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ফল পরিবর্তনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি—চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক হারে সম্পদশালী হয়ে উঠেছেন, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা তার নামে-বেনামে রয়েছে।
তার অতীত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৩৮তম ব্যাচে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে নীতিভ্রষ্ট আচরণের অভিযোগে পুরো ব্যাচ বহিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিতে অপ্রফেশনাল আচরণের জন্য তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়। এমনকি এমভি জাহান মনির দ্বিতীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে ইঞ্জিন নষ্ট করার ঘটনাও মালিকপক্ষ তাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক তদবীরে তিনি সরকারি চাকরি পান এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনি রাজনৈতিক খাতিরে গুরুত্ব পেয়েছেন।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবুল বাশার দাবি করেন—সবকিছুই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। তবে ভুক্তভোগীদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যাবে এবং তারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।
