সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম আংগুর। এলাকাজুড়ে তিনি এখন “বালু খেকো” নামে পরিচিত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নদী থেকে বালু তুলছেন নির্বিঘ্নে, আর এতে প্রতি মাসে আয় করছেন কোটি টাকার বেশি।

শ্যামনগরের গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, আড়পাঙ্গাশিয়া, নওয়াবেকী ও ঘোলা— এসব এলাকায় কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর তীরে জনবসতি গড়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিবছরই এসব এলাকায় নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীভাঙন আরও তীব্র হয়েছে, বেড়িবাঁধও পড়েছে ঝুঁকিতে।

স্থানীয়রা জানান, আগে আওয়ামী লীগের সময় কিছু যুবলীগ নেতা বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং এতে মাসে কোটি টাকা আয় করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেই বালু বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ যায় যুবদল নেতা আনারুলের হাতে। তিনি সাতক্ষীরার আশাশুনি থানার ঘোলা তেরমুনে এলাকার একটি বালু মহলের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে বালু উত্তোলন করছেন গাবুরা ইউনিয়নের জেলিয়াখালী নামক স্থানে, যা তার ঘোষিত মহল থেকে নদীপথে প্রায় বিশ কিলোমিটার দূরে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, আনারুল ইসলাম আংগুর প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দেন, যাতে তার অবৈধ কার্যক্রমে বাধা না আসে। অভিযোগ রয়েছে, শ্যামনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকও তার প্রভাবের বাইরে নন। এলাকাবাসী কেউ প্রতিবাদ করলে আনারুল তাদের হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেন।

গাবুরার কিছু বাসিন্দা জানান, এখন এলাকায় আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির প্রভাব নেই, বালুর ব্যবসায় জড়িত শুধু বিএনপি ও জামায়াতপন্থীরা। প্রশ্ন উঠেছে, জামায়াত শিবির নেতারা কেন এ বিষয়ে চুপ আছেন। স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ও রাজনীতি দুই দিকই এখন অর্থের বিনিময়ে আনারুলের নিয়ন্ত্রণে, তাই কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *