
বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম তালুকদারকে ঘিরে দপ্তরজুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ-বদলির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি এখন সরগরম। সম্প্রতি তাঁর অনিয়ম ও সহযোগীদের দূর্নীতির খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ উঠেছে, সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে ফিরোজ আলম তালুকদার সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় প্রতিবেদক ও তাঁর সহকর্মী শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং–৭১৪/২৫) করেছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তালিকাভুক্ত ফিরোজ আলম তালুকদার দীর্ঘদিন ধরেই এলজিইডির সবচেয়ে বিতর্কিত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। ২০১৫ সালে দুদক তাঁকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও কোটি টাকার কর ফাঁকির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ১৫ ও ১৬ এপ্রিল দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদের পরও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তখন তাঁর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ১/১১–এর পর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহেদুর রহমানের সময়ে পদোন্নতির ঘুষ বাণিজ্যে ফিরোজ আলম তালুকদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আদালতের এক রায়ের পর পদোন্নতির সুবিধা পাওয়া প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে প্রায় ৩,১০৫ জনের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়। মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে তিন শত কোটি টাকা, যা ফিরোজের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সে সময় তিনি প্রধান প্রকৌশলীর স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মোহাম্মদ নাসিমের নাতি এবং ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের কথিত পুত্র বা আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ফিরোজ আলম তালুকদার এলজিইডিতে নিয়োগ, বদলি ও ঠিকাদারি কার্যক্রমে প্রভাব খাটান। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি পরিচয়েও তিনি প্রশাসনে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
তার নিজ জেলা সিরাজগঞ্জেও ফিরোজের প্রভাব তীব্রভাবে দৃশ্যমান। স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, তাঁর ভাই ও ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সহযোগীদের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন প্রকল্পে কমিশন বাণিজ্য চালাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও এলজিইডি অফিস তাঁর ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক কর্মকর্তা।
এলজিইডির ভেতরে-বাইরে এখন অনেকেই বলছেন, ফিরোজ আলম তালুকদার কেবল একজন প্রকৌশলী নন—তিনি যেন এক “অঘোষিত কর্তৃপক্ষ”। দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতির সংস্কৃতিতে জড়িয়ে থাকা এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যদি কঠোর তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উন্নয়ন সংস্থার ভাবমূর্তি আরও প্রশ্নের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
