
বিশেষ প্রতিবেদকঃ ব্রেন ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময়ই সাধারণ মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা মানসিক চাপের মতো দেখায়। ফলে রোগীরা যেমন উপসর্গগুলোকে গুরুত্ব দেন না, তেমনি অনেক সময় চিকিৎসকেরাও বিষয়টি হালকাভাবে নেন। এতে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়—আর এই দেরিই হতে পারে সবচেয়ে বিপজ্জনক।
যুক্তরাজ্যের গবেষক লরা স্ট্যান্ডেন দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন ক্যানসার নিয়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, বেশির ভাগ রোগী প্রথম দিকে লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেছিলেন। অথচ ক্যানসার যত দেরিতে ধরা পড়ে, চিকিৎসাও তত কঠিন হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কের ক্যানসারের উপসর্গ অনেক সময় মাইগ্রেন, সাইনাস, মানসিক চাপ, মেনোপজ বা ক্লান্তি–র মতোই মনে হয়। তাই অনেকেই বুঝতে পারেন না যে এটি মারাত্মক রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে।
যেসব সাধারণ লক্ষণ ব্রেন ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে
১. কথা খুঁজে না পাওয়া
হঠাৎ কোনো শব্দ মনে না পড়া বা কথা বলার সময় আটকে যাওয়া। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. মানসিক ধোঁয়াশা বা ‘ব্রেন ফগ’
মনোযোগ কমে যাওয়া, মাথা ঘোলাটে লাগা বা স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া—এগুলো যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে স্নায়ুবিক কোনো সমস্যা থাকতে পারে।
৩. শরীর অবশ হয়ে যাওয়া
বিশেষ করে শরীরের একপাশে ঝিনঝিন ভাব বা অবশতা দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। এটি মস্তিষ্কের সংকেতপ্রদানকারী অংশে টিউমারের ইঙ্গিত হতে পারে।
৪. দৃষ্টিশক্তির সমস্যা
হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা, দুটি ছবি দেখা বা সরল রেখা বাঁকা মনে হওয়া। এর সঙ্গে মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা থাকলে অবহেলা করা বিপজ্জনক।
৫. অগোছালো হাতের লেখা বা ভারসাম্যের সমস্যা
হাত–চোখের সমন্বয়ে পরিবর্তন বা লেখার সময় অস্বাভাবিক কাঁপুনি দেখা দিলে এটি মস্তিষ্কের মোটর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় সমস্যা নির্দেশ করতে পারে।
৬. ব্যক্তিত্ব বা আচরণে পরিবর্তন
হঠাৎ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, কাজে অনাগ্রহ বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে যদি অন্য উপসর্গও থাকে।
৭. দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা
প্রতিদিনের মতো নয়, বরং ক্রমে বাড়তে থাকা বা রাতে ঘুম ভাঙিয়ে দেওয়া মাথাব্যথা—এটি হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।
নতুন নির্ণয় পদ্ধতিতে আশার আলো
গবেষকেরা বলছেন, এখন ব্রেন ক্যানসার আগেভাগে শনাক্ত করার কিছু আধুনিক পদ্ধতি চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পরীক্ষা—যার মাধ্যমে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও ভাষাগত দক্ষতা যাচাই করা হয়।
এ ছাড়া লিকুইড বায়োপসি বা রক্ত পরীক্ষা করে ক্যানসারের ডিএনএ শনাক্ত করার প্রযুক্তিও দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে।
