নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়টির ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষার্থীদের এই ফলাফলের পেছনে নিয়মিত পাঠদান, শৃঙ্খলা, পড়াশোনার পরিবেশ উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের বিভিন্ন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বর্তমান এডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে সঠিক অভিভাবকত্ব ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে বিদ্যালয়টির বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বর্তমান এডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংস্কারেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।

বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মো. আশরাফুজ্জাহান জাহান এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলমের নেতৃত্বে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদের সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে অভিভাবকদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, এডহক কমিটির উদ্যোগ এবং শিক্ষা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শাখার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নেও কাজ চলছে। আগে বিদ্যালয়ে থাকা ছোট অডিটোরিয়ামটি বড় করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করার সংস্কারকাজ চলছে। নতুন অডিটোরিয়ামে প্রায় ৬০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা থাকবে। এটি চালু হলে অভিভাবক সমাবেশ, সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বার্ষিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন আয়োজন আরও সুন্দরভাবে করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেও নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে। এর মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

মহিলা শিক্ষক ও ছাত্রীদের সুবিধার জন্য পৃথক নামাজের স্থানও তৈরি করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের অন্যান্য প্রয়োজন ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত বকেয়া পৌরকর পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমান পর্ষদের উদ্যোগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে মোট ৬৬ লাখ ৬২ হাজার ৮০৬ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়েও একটি আইনি বিষয় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের লিভ টু আপিল মামলা নম্বর ২৮৩১/২০২৫-এ আদালতের স্ট্যাটাসকো আদেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এই অবস্থায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব আইন অনুযায়ী পালন করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নুরে আলম বলেন, বিদ্যালয়ের সব কার্যক্রম শিক্ষা বোর্ডের প্রচলিত বিধি ও প্রবিধান মেনেই পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা ও আর্থিক জটিলতা সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়ম-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রাথমিক শাখার অনুমোদন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু ভালো ফলাফল করানো নয়, তাদের খেলাধুলা ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ এমনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরও বেশি আস্থা রাখতে পারেন।

মো. নুরে আলম বলেন, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা এবং সহযোগিতাই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের বড় শক্তি। ভবিষ্যতে শিক্ষার মান আরও বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও পরিবেশ উন্নয়নের কাজ অব্যাহত থাকবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর পাস এবং ১৬ জনের জিপিএ-৫ অর্জনকে সেই অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হিসেবে দেখছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

তাদের প্রত্যাশা, চলমান সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো পরিবেশ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো করার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিকে একটি মানসম্মত ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *