ক্রীড়া ডেস্ক : ভিনিসিউস-রাফিনিয়াদের ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার ঐতিহাসিক মিশন ভারতের, আর এই অগ্নিপরীক্ষার আগেই জাতীয় দলে ফিরলেন মিডফিল্ডার অনিরুদ্ধ থাপা। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের মতো বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তির বিপক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এই কঠিন লড়াইয়ের আগে প্রায় দুই বছর পর ২৮ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ তারকাকে দলে ফিরিয়ে মধ্যমাঠ শক্তিশালী করল ভারত।

থাপা সর্বশেষ ভারতের জার্সি পরেছিলেন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, মরিশাসের বিপক্ষে। এবার তার প্রত্যাবর্তন হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় এক সিরিজের আগে।

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে তিনটি ম্যাচ খেলবে ভারত। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর বেঙ্গালুরুতে পানামার মুখোমুখি হবে তারা। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। তিন দিন পর, ৬ অক্টোবর একই ভেন্যুতে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলবে তারা।

বিশ্ব ফুটবলের তারকাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত থাপা। তার কাছে নিজেদের ঘরের মাঠে এমন ম্যাচ খেলার সুযোগ জীবনে একবারই আসে, ‘ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দুটোই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল। তাদের দলে বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছে। নিজেদের ঘরের মাঠে দেশের দর্শকদের সামনে তাদের বিপক্ষে খেলার এই সুযোগ জীবনে একবারই আসে।’

দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় দলে ফিরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগটিও বিশেষ মনে করছেন থাপা। তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি সত্যিই রোমাঞ্চিত। এই ম্যাচগুলো খেলে আমাদের দলের শক্তি পরীক্ষা করার বড় সুযোগ হবে। তাদের বিপক্ষে খেলে আমরা অনেক অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারব।’

ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামা-তিন দলই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে খেলেছে। স্বাভাবিকভাবেই এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ভারতীয় দলও রোমাঞ্চিত। তবে থাপার মতে, ম্যাচ শুরু হলে প্রতিপক্ষের নাম নিয়ে ভাবলে চলবে না। তখন লড়াইটা হবে ১১ জন বনাম ১১ জনের।

তিনি বলেন, ‘ম্যাচগুলো নিয়ে যখন আমরা আলোচনা করি, তখন সত্যি গায়ে কাঁটা দেয়। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে এমন দেশের বিপক্ষে খেলার অনুভূতি দারুণ। তবে মাঠে নামার পর তো লড়াইটা ১১ জনের বিপক্ষে ১১ জনেরই। আমাদের মাঠে সেরা ফুটবলটাই খেলতে হবে।’

সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে এই ম্যাচগুলোতে থাপার দায়িত্বও কম নয়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের আক্রমণ সামলাতে ধীরস্থির থাকা এবং পুরো দলকে সুশৃঙ্খল রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন তিনি। কারণ সামান্য ভুলও বড় দলগুলোর কাছে বড় মূল্য চুকিয়ে দিতে পারে।

থাপার ভাষায়, ‘আমাদের আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। একই সঙ্গে মাঠে চরম শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। ৯০ মিনিট ধরে আমাদের সংগঠিত থাকতে হবে এবং লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। কারণ প্রতিপক্ষ দলগুলো পুরো ম্যাচজুড়েই আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ভুল কম করতে পারি, তবে সেটাই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি হবে। এই ম্যাচগুলোতে মিডফিল্ড ও রক্ষণভাগের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা খুব জরুরি। কারণ প্রতিপক্ষ দল ছোট জায়গায় দ্রুত পাস খেলে আক্রমণ করতে পারে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *