আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমেরিকার নৌবাহিনীর অবরোধের মধ্যেই গত চার মাসে তেল বিক্রি করে ৭৫০ কোটি ডলার আয় হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরান। শনিবার বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে অবরোধ সংক্রান্ত আলোচনা অচলাবস্থায় থাকলেও তেহরান তাদের বাজেট লক্ষ্যমাত্রা প্রায় পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

ফার্স জানিয়েছে, বর্তমান ইরানি বর্ষের প্রথম চার মাসে (২১ মার্চ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত) তেল বিক্রি থেকে আসা এই ৭৫০ কোটি ডলার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়েছে। তেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তহবিল জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট হবে। নির্দিষ্ট এই সময়ের মধ্যে তেল থেকে রাজস্ব আয় বাজেটে প্রাক্কলিত পরিমাণের ৯৯ শতাংশ অর্জন করেছে।

​এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর এই অবরোধ ইরানের তেল রপ্তানি এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যকে ব্যাহত করেছে। হরমুজ প্রণালির বর্তমান অবস্থাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিরোধ এখনো চরমে। চলমান সংঘাতে তেহরান এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচল সীমিত করে দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত ও অবাধ নৌ চলাচলের স্বার্থে জলপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

গত জুন মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পৌঁছানো একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী (এমওইউ), মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া ছিল অন্যতম প্রধান শর্ত। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন অবরোধ অবসান, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তেহরান এই জলপথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করবে না।

​ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রাষ্ট্রীয় টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব স্বীকার করে বলেছেন যে কিছু লোক বলে নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই, কিন্তু যারা এ কথা বলেন, তাদের উদ্দেশে তার সত্যিই কিছু বলার নেই। তিনি জানান যে তারা একটি যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন এবং তাদের এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *