নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান-এর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অস্বচ্ছ আর্থিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে অনুসন্ধান চাওয়া হয়েছে তার সম্পদের উৎস ও নির্বাচনী তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে গিয়ে মোস্তফা জামান তিনশত কোটি টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক—এমন মন্তব্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ থেকে ১০ বছরে মোস্তফা জামান রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ একর জমি, ১০ থেকে ১২টি বহুতল ভবন এবং ২০টিরও বেশি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, তার দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা বা প্রকাশ্য আয়ের উৎস নেই, কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন মোস্তফা জামান। নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭৭ শতাংশ, এবং বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে তার ভাড়াজনিত আয়ই মাসিক প্রায় দুই কোটি টাকা, যা বাৎসরিক হিসাবে ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ আয়কর বিবরণীতে এমন কোনো পরিমাণ অর্থের উৎস বা ঘোষণা দেখা যায় না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, “২০২০ সালের পর থেকে মোস্তফা জামানের সম্পদ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র এক দশকের মধ্যে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”

এছাড়া, অভিযোগে দাবি করা হয়, জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন মোস্তফা জামান। এর আগে তিনি তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি নাকি ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির পদ অর্জন করেছেন, এমন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “মোস্তফা জামান প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, প্রয়োজনে তিনশত কোটি টাকা খরচ করে হলেও তিনি ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন। প্রকাশ্যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও কীভাবে তার পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলো—দুদকের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা।”

এ বিষয়ে মোস্তফা জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি কমিশনের রিসিভ সেকশনে জমা হয়েছে এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *