বিশেষ প্রতিনিধিঃ দীর্ঘ দুই বছর সাত মাসের প্রতীক্ষার পর অবশেষে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে সাংবাদিকদের কল্যাণভিত্তিক সংগঠন “সাংবাদিক সুরক্ষা ও কল্যাণ ফাউন্ডেশন।‍‍‍‌‌ সংগঠনটির নিবন্ধন নম্বর S-14517 নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ায় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২৩ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেন—সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও দায়িত্বশীল সংগঠন সময়ের দাবি। বিভিন্ন জেলা ও এলাকায় কাজ করতে গিয়ে তিনি দেখেছেন, অনেক সাংবাদিক পেশাগত ঝুঁকি, মামলা-মোকদ্দমা, হেনস্তা ও আর্থিক সংকটে পড়লেও তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের অভাব রয়েছে। সেই প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই ফাউন্ডেশনের যাত্রা।

প্রতিষ্ঠানের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য

সংগঠনের গঠনতন্ত্রের ধারা-৪ অনুযায়ী, ফাউন্ডেশনটি একটি অরাজনৈকিত, কল্যাণমুখী, স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক জাতীয় সংগঠন হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার, সুরক্ষা ও উন্নয়নে কাজ করবে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

১. অসহায় সাংবাদিকের মৃত্যুতে সহায়তা:
কোনো অসহায় সাংবাদিক মৃত্যুবরণ করলে তার দাফন-কাফনের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি পরিবারকে ১০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রাপ্তবয়স্ক বেকার সন্তানদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

২. স্বল্প ব্যয়ের আবাসন প্রকল্প:
সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে সাংবাদিকদের জন্য কমিউনিটি-ভিত্তিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

৩. সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন:
প্রতিটি জেলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, নৈতিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

৪. স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা:
প্রতিটি বিভাগে সাংবাদিকদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল বা নির্ধারিত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন:
সাংবাদিকদের সন্তানদের জন্য প্রতিটি জেলা শহরে একটি বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের জন্য বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

৬. নারী সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন:
নারী সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টেইলারিং, ফ্যাশন ডিজাইন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, হ্যান্ডিক্রাফট, ফুড প্রসেসিং, ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

৭. আইনি সহায়তা:
প্রতিটি জেলায় তিনজন করে অভিজ্ঞ আইনজীবী নিয়োগের মাধ্যমে সাংবাদিকদের আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। হামলা, মামলা, হয়রানি বা মিথ্যা অভিযোগের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

৮. চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ নিয়োগ:
জেলা ও থানা পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক নিয়োগ এবং বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

৯. কারামুক্ত সাংবাদিক পুনর্বাসন:
কারামুক্ত সাংবাদিকদের পুনর্বাসন, মানসিক পরামর্শ, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১০. ভ্রমণ ও যোগাযোগ সুবিধা:
দূরপাল্লার যানবাহন, টোল প্লাজা, বিমান, লঞ্চ, ট্রেন ও মেট্রোরেলে সাংবাদিকদের জন্য অগ্রাধিকার ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

১১. পেশাগত ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন:
যোগ্য সাংবাদিকদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা, স্কলারশিপ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং একটি শক্তিশালী কল্যাণভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *