নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে এখন ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের নির্বাচনি পরিবেশ, দলীয় অবস্থান, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।

জি এম কাদের বলেন, রংপুর এলাকায় তারা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে প্রচার চালাতে পারছেন এবং সদর আসনে আপাতত বড় কোনো বাধা দেখছেন না। তবে বগুড়ায় তাদের এক প্রার্থী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার দাবি, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছিল। অনেক কর্মীকে নাকি পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল—যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে। জি এম কাদের অভিযোগ করেন, বর্তমানে গ্রেপ্তারের পর সহজে জামিন পাওয়া যায় না, বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়। এমনকি জামিন পেলেও আবার নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব কারণে কর্মীরা আতঙ্কিত, যা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তার বক্তব্য।

তিনি আরও বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি দল এনসিপি সক্রিয় রয়েছে এবং জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টি এবার কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই বড় দলই নানা কৌশলে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। মামলা, রাজনৈতিক চাপ, বাধা ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে দলকে কোণঠাসা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এবার প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে নির্যাতিত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতীয় পার্টিকে মানুষ গ্রহণ করছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসনসংখ্যা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও জি এম কাদের জানান, এবার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, গোড়া থেকে সংগঠন শক্তিশালী করতেই তারা এককভাবে নির্বাচনে লড়ছেন। ফলাফল যাই হোক, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে চান তারা।

পোস্টাল ব্যালট নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তার দাবি, এ ব্যবস্থায় কারচুপি বা ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তাদের বিশেষজ্ঞরা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বিএনপিকেও অবহিত করেছেন।

গণভোট প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির অবস্থান ‘না’-এর পক্ষে। জি এম কাদেরের ভাষ্য, এই গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘না’ ভোট জয়ী না হলে দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, এ মুহূর্তে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নেই এবং এটি দেশের জন্য অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *