
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রয়োজনীয় ও উচ্চতর লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে কানাডার এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের পুলিশ দীর্ঘ চার মাস তদন্তের পর এয়ার কানাডার সাবেক ক্যাপ্টেন জিওফ্রে ওয়ালের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ এনেছে।
বুধবার (১০ জুন) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পিল আঞ্চলিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রে ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জাল পাইলট লাইসেন্স ব্যবহার করে দেশের ভেতরে এবং আন্তর্জাতিক রুটে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার আগে তিনি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এবং বেসামরিক বিমান চলাচল প্রশাসন উভয় পক্ষকেই নিজের যোগ্যতার নথিপত্র নিয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখেছিলেন বলে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ালের একটি বৈধ সাধারণ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমান চালানোর জন্য বাধ্যতামূলক ‘এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স’ ছিল না।
সাবেক এই ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, ভুয়া নথি ব্যবহার, জাল ট্রেডমার্ক নিজের কাছে রাখা এবং জননিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর মতো বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইআপ্পা এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যে এই জালিয়াতি সরাসরি জননিরাপত্তা এবং গণআস্থার ওপর আঘাত হেনেছে কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইটে লাখ লাখ যাত্রীর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছেন।
অন্যদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার কথা জানালেও দাবি করেছে যে এর ফলে যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। বিমান সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে যে তাদের প্রতিটি পাইলটকে প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ এবং বছরে একবার প্রত্যয়িত পাইলটের অধীনে ফ্লাইটের দক্ষতা পরীক্ষা দিতে হয়। জিওফ্রে ওয়াল তার পুরো কর্মজীবনে এই প্রশিক্ষণগুলোতে সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং বড় বিমান নিখুঁতভাবে চালানোর উচ্চ দক্ষতা প্রদর্শন করেছিলেন।
কানাডার এই জাতীয় বিমান সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে এই ঘটনা জানার পরপরই উক্ত পাইলটকে সক্রিয় ডিউটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে অবহিত করা হয়। পরবর্তীতে তাদের সকল পাইলটের লাইসেন্স অডিট বা পুনঃযাচাই করে অন্য কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক সংস্থা ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং লাইসেন্সধারী পাইলট হাসান শাহিদি এই ঘটনাকে ব্যতিক্রমী ও বিরল বলে উল্লেখ করেছেন।
হাসান শাহিদি আল জাজিরাকে বলেন যে এখানে মূল সমস্যা কোনো অদক্ষ মানুষের বিমান চালানো নয়, বরং একজন পাইলট কর্তৃক দীর্ঘ বছর ধরে মূল প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মকে ফাঁকি দেওয়া। এই ঘটনাটি লাইসেন্স যাচাইকরণ এবং সামগ্রিক নজরদারি প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে যা এত বছর ধরে ধামাচাপা পড়েছিল। তবে পাইলট প্রশিক্ষিত থাকায় সাধারণ যাত্রীরা কোনো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েননি বলেও তিনি মনে করেন।
সূত্র: আল জাজিরা
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ রবিন মিয়া
নির্বাহী সম্পাদকঃ ইরিন তৃষ্ণা
ফোন নাম্বারঃ 01937643838
ফোন নাম্বারঃ 01772666086
Email: News@doinikalokbarta.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: সেকশন-৬, ব্লক-ক লেইন-১, বাড়ি - ২০/১ মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2025 All rights reserved দৈনিক আলোক বার্তা