আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নবনির্মিত সংযোগ সেতুর উদ্বোধন আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন তার উত্তরের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটিকে যা কিছু দিয়েছে, তার জন্য ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ না পাওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ বহাল থাকবে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সংযোগকারী গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতুটি ততক্ষণ পর্যন্ত খুলবে না, যতক্ষণ না অটোয়া ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই ন্যায্য ও সম্মানজনক আচরণ করছে, যার দাবিদার আমরা’।”

প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেতুটির নির্মাণ ব্যয় সম্পূর্ণ বহন করছে কানাডা সরকার, তবে এটি কানাডা ও মিশিগান উভয় পক্ষের সরকারি মালিকানাধীন হবে।

ট্রাম্প ঠিক কীভাবে এই উদ্বোধন আটকে দেবেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ও অনুমোদনের পর যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ দিন ধরে প্রকল্পটি দুই দেশের মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের তথ্যমতে, এই প্রকল্পে আনুমানিক ৬৪০ কোটি কানাডিয়ান ডলার খরচ হয়েছে।

সোমবার ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, এই সম্পদের ‘অন্তত অর্ধেক মালিকানা’ যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কানাডা সেতুর উভয় পাশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা সরকার আশা করে যে, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের কেবল ‘আমেরিকার সুবিধা নেওয়ার’ অনুমতি দেব! আমি এই সেতুটি খুলতে দেব না যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রকে সবকিছুর জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।”

ট্রাম্প সোমবার দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেন, “কানাডা আমাদের দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর অনেক বছর ধরে যে শুল্ক আরোপ করে রেখেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনের সঙ্গে গত মাসে কানাডার স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অটোয়ার জন্য ‘চরম বিপদ ডেকে আনবে’। তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, চীন কানাডায় প্রভাব খাটিয়ে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ‘আইস হকি’ বন্ধ করে দেবে এবং বিখ্যাত ‘স্ট্যানলি কাপ’ টুর্নামেন্ট চিরতরে মুছে ফেলবে।

গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতুর পার্শ্ববর্তী অ্যাম্বাসেডর সেতুর মালিক মার্কিন মোরউন পরিবার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই নতুন সেতুর নির্মাণ বন্ধ করার আবেদন করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এটি তাদের টোল আদায়ের একচেটিয়া অধিকারে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে সে সময় ট্রাম্প এবং কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, এই সেতুটি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অপরিহার্য অর্থনৈতিক যোগসূত্র’।

বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের বর্তমান হুমকির বিষয়ে কানাডার সেতু কর্তৃপক্ষ, অন্টারিওর প্রিমিয়ারের কার্যালয় বা ডেট্রয়েটের মেয়রের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসিসিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *