বাবাকে হারানোর পর বুধবার (১২ আগস্ট) স্যোশাল মিডিয়ায় নিজেকে প্রকাশ করেন মেসি। বাবাকে নিয়ে তিনি পোস্ট করেছেন দীর্ঘ আবেগঘন বার্তা।
পেস্টের শুরুতেই মেসি লিখেছেন, ‘বাবা, আমি এখনও বিশ্বাসই করতে পারছি না যে তুমি নেই। আর কোনোদিন তোমাকে দেখতে পাব না, তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারব না– এটা ভাবতেই পারছি না। আমি জানি, তুমি অনেক কষ্টে ছিলে আর মুক্তি পাওয়াটাই তোমার জন্য ভালো হয়েছে; কিন্তু তুমি বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলে। আমাদের তো একসঙ্গে আরও অনেক কিছু উপভোগ করার বাকি ছিল।’
বয়স বাড়লেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে খেলার জন্য বাবার ইচ্ছা ছিল বলেও জানান মেসি, ‘তুমি সব সময় আমাকে এই শেষ বিশ্বকাপটা খেলতে বলতে; কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শরীরটা বেশি খারাপ হয়ে গেল। এই প্রথমবার এমন হলো যে তুমি কোনো টুর্নামেন্টে থাকতে পারলে না। তবে মা আমাকে বলেছিল, তুমি সুস্থ হয়ে যাবে আর ট্রাভেল করার মতো অবস্থায় আসবে। আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমরা ফাইনালে উঠব আর তুমি এসে অন্তত একটা ম্যাচ দেখতে পারবে।’
অসুস্থতার কারণে মেসির বাবা বিশ্বকাপটা উপভোগ করতে পারেননি। সেটিও ফুটে উঠেছে মেসির বার্তায়, ‘যা যা ঘটেছিল, সেসব নিয়ে তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি বলেই আমি তোমার কাছে ছুটে এসেছিলাম। তুমি তো কিছুই এনজয় করতে পারোনি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি; কিন্তু প্রতিটি ম্যাচ আমরা কতটা উপভোগ করেছি, সেটি তুমি জানতেও পারলে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে– তোমার সেখানে থাকা আর খেলাটাই দরকার ছিল। আমি তোমাকে এগুলো বলছি কারণ, একমাত্র এই বিষয়টা নিয়েই আমরা কথা বলতে পারিনি, কারণ বাকি সব তো তুমি আগেই জানতে। আমাদের প্রতিদিন কথা হতো, আর আমার ব্যস্ততার মধ্যেও সুযোগ পেলেই আমরা দেখা করতাম।’
যে বাবার কারণে ফুটবলার হয়েছেন, সেই বাবা চলে যাওয়ায় ফুটবলে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত মেসি, ‘তোমাকে ছাড়া আমি কী করব, বুঝতে পারছি না! কীভাবে সামনে এগিয়ে যাব, সেটিও জানি না। আমি তো শুধু ফুটবলই খেলেছি। এখন আমার খুব সন্দেহ হচ্ছে যে আমি আর বেশিদিন এটি চালিয়ে যেতে পারব কিনা। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তুমি আমার পাশে ছিলে। আর একটুখানি সময় নিজেকে ধরে রাখতে পারলে না কেন, তাহলে তো আমরা একসঙ্গেই শেষ করতে পারতাম? আমি জানি, তোমার আসল আনন্দ ছিল তোমার পরিবার, স্ত্রী ও সন্তানদের দেখতে পাওয়া... আর সবার অজান্তে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেতে আমাকে খেলতে দেখে।’
ছোটবেলায় হোর্হে নিজের সন্তানকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে যেতেন। শৈশবের সেই কথাও বার্তায় লিখেছেন মেসি, ‘আমি যখন একদম ছোট ছিলাম, তখন থেকেই সবকিছু এমন ছিল। কাজ থেকে বাড়ি ফিরেই তুমি আমাকে সব ট্রেনিং সেশনে নিয়ে যেতে। আর তুমি কাজে ব্যস্ত থাকতে বলে অনেক কিছু আমাকেই মায়ের কাছে নিয়ে যেতে হতো। স্বভাবতই, তুমি আমার একটা ম্যাচও মিস করতে না। আমাকে খেলতে দেখে তুমি যেমন টেনশনে কষ্ট পেতে, তেমনই উপভোগও করতে– যদিও মুখে কখনও খুব একটা প্রশংসা করতে না। তুমি একাধারে বাবা, বন্ধু আর রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলে। প্রতিটি মুহূর্তে তোমার যে রোলে থাকা দরকার ছিল, তুমি ঠিক সেটাই করেছ আর কখনও কোনো ভুল করোনি। কিছুটা রাগারাগি বা ঝগড়াঝাঁটি বাদ দিলে দিনশেষে তুমিই সব সময় ঠিক ছিলে। শেষ পর্যন্ত সবকিছু তোমার কথামতোই হতো।’
বাকি জীবনে বাবাকে মিস করবেন বলে জানান মেসি, ‘তোমাকে খুব মিস করব, তবে তুমি সব সময় আমাদের মাঝে থাকবে, বিশেষ করে আমার বাচ্চাদের মানুষ করার ক্ষেত্রে। কারণ, তুমি আমাকে যেভাবে শিক্ষা দিয়েছ, আমিও আমার সন্তানদের সেভাবেই গাইড করছি। ওপারে শান্তিতে থেকো বাবা, আর এখান থেকে যেভাবে আমাদের আগলে রাখতে, ওপর থেকেও সেভাবেই খেয়াল রেখো। সবকিছুর জন্য ধন্যবাদ। তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা।’ সামাজিক মাধ্যমে বাবাকে নিয়ে মেসির আবেগঘন বার্তায় মন্তব্য করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, “এই কঠিন সময়ে তোমাকে এবং তোমার পরিবারকে অনেক বড় একটা আলিঙ্গন। শক্ত থাকো ‘লিও’।”
