বাংলাদেশে তামাকজনিত মৃত্যু ঠেকাতে আইন শক্তিশালী করার দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। এ বাস্তবতা তুলে ধরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটি যৌথভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনগুলো সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান আইনকে শক্তিশালী না করা হলে অকালমৃত্যু কমানো, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাপ হ্রাস ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা সম্ভব নয়। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, দেশে প্রতিদিন ৩৫৭ জন এবং বছরে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ তামাকজনিত রোগে মারা যায়। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক প্রায় ১৫ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হন এবং ৬১ হাজার শিশু বিভিন্ন রোগে ভোগে।

বিবৃতিতে তামাকের অর্থনৈতিক প্রভাবও তুলে ধরা হয়েছে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তামাক থেকে সরকারের আয় ছিল ৪০ হাজার কোটি টাকা; কিন্তু স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার কোটি টাকা—আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, অন্তবর্তীকালীন সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকেই তামাকশিল্প বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সংশোধন প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করছে।

যৌথ বিবৃতিতে ৬টি সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে:

  1. সব পাবলিক স্থান ও গণপরিবহনে ধূমপানের নির্ধারিত স্থান বাতিল করা

  2. বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকপণ্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা

  3. তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা

  4. ই-সিগারেট থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা

  5. তামাকপণ্যের খুচরা ও খোলা বিক্রি বন্ধ করা

  6. সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা ৫০% থেকে বাড়িয়ে ৯০% করা

বিবৃতিতে সই করেছেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী, বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক এবং বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা. আসিফ মুজতবা মাহমুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *