বিশেষ প্রতিবেদকঃ বন বিভাগকে অশান্ত করতে বেশ কিছুদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে নানামুখী অপপ্রচার অব্যাহত রয়েছে। একটি অশুভ শক্তি সোস্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন। এতে কোনটি সত্য কোনটি অসত্য তা নিরূপন করা আদৌ সম্ভব হচ্ছে না। কিন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বন অধিদপ্তর।

এই চক্রটি কখনও প্রধান বন সংরক্ষক, কখনও উপ প্রধান বন সংরক্ষক কিংবা বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও মনগড়া তথ্য এবং আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে অশান্ত করে তোলা হচ্ছে বন অধিদপ্তরকে। এতে বন কর্মকর্তাদের মধ্যে নানামুখী ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঢালাওভাবে অভিযোগের কারণে বন বিভাগের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বন অধিদপ্তরের আওতায় সারাদেশে মেধাবী, দক্ষ ও সচেতন কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সংখ্যাও কম নয়। অথচ বন বিভাগে কর্মরত এই সব দক্ষ, চৌকস, দায়িত্বশীল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের দুর্নীতিবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করে সরকার ও দেশবাসীকে বিব্রত করা হচ্ছে। কারও কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তো রয়েছেই। তাই বলে সবাইকে অভিযুক্ত করে সোস্যাল মিডিয়ায় ন্যাক্কারজনকভাবে অপপ্রচার চালানো অশুশক্তির অপপ্রয়াস বলে অভিহিত করেছেন সচেতনমহল।

সাম্প্রতিককালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে বন বিভাগের শীর্ষ পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একের একের পর অসত্য, বানোয়াট এবং কাল্পনিক দুর্নীতির অভিযোগ এনে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়ার সেই সব ভুয়া আইডি যাচাইকালে দেখা যাচ্ছে এতে কারও সুনির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। নেই যোগাযোগ করার ব্যবস্থাও।

সূত্র জানিয়েছে, সেই সব ভুয়া আইডি ব্যবহারকারীরা কোন কোন বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থও দাবি করছে। তারা শান্ত বন অধিদপ্তরকে অশান্ত করার করার নীল নকশা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সোস্যাল মিডিয়ার ভুয়া আইডিগুলো যাচাইকালে দেখা যায়, বন অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর মত একজন ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কর্মকর্তাকে আওয়ামী ট্যাগ দিয়ে ন্যাক্কারজনকভাবে সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আবার প্রধান বন সংরক্ষকের দীর্ঘ দিনের সহকর্মীদের সঙ্গেও ট্যাগ লাগিয়ে দুরত্ব সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে সোস্যাল মিডিয়ায়। যা নিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও বিব্রত।

বন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী তার যোগ্যতায় আওয়ামী সরকারের আমলেই নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন এবং তার চাকুরীকাল আরও বেশ কয়েক বছর রয়েছে। তিনি আওয়ামী আমলে ফ্যাসিবাদের পক্ষ অবলম্বন করেননি। তিনি রাষ্ট্রীয় এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। দিবালোকের মতো সত্য যে, তিনি ফ্যাসিবাদী মন্ত্রীদের চাটুকারীও করেননি। তিনি নিয়োগ ও বদলী বাণিজ্য করেননি। অথচ তাকে আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে প্রধান বন সংরক্ষকের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা করছে দুর্বৃত্তরা।

পেশাগত দায়িত্বপালনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন সিসিএফ আমীর হোসাইন চৌধুরী। তিনি ২০০৩ সালে বন অধিদপ্তরে সহকারী বন সংরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি ডিপার্টমেন্টের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। প্রধান বন সংরক্ষকের ঈর্ষাণীয় সফলতায় কেউ কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে এ ধরনের ঘৃণ্য অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বলে সূত্র জানায়। তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত বলেও তার সহকর্মীরা জানান এ প্রতিবেদকে। সিসিএফ আমীর হোসাইন চৌধুরী তার পেশাগত দায়িত্বপালনকালে বন বিভাগে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা সমস্যা সমাধানে সরকারে শীর্ষ মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেই এর সমাধানে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এবং তা অব্যাহত রয়েছে বলে সূত্র জানায়। তার বিনয়ী ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে বলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারিরা জানান।

তবে কি কারণে, কার এজেন্ডা বাস্তবায়নে দুর্বৃত্তরা বন অধিদপ্তরে কর্মরত পেশাদার ও দায়িত্বশীল প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) আমীর হোসাইন চৌধুরীকে টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে ইতিমধ্যে অনেকের মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারিগণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *