বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম আবারও ঢাকায় ফিরে আসায় তাকে ঘিরে পুরনো অভিযোগগুলো নতুন করে সামনে এসেছে। বিভিন্ন মহলে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, সরকারি কাজের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে এবং বিভিন্ন অনৈতিক উপায়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন।

সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে অনিয়মের অভিযোগে তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি আবার ঢাকায় ফিরে আসেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটানো এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে তিনি এই বদলি নিশ্চিত করেছেন। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম করে পার পেয়ে যাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—ঘুষ গ্রহণ, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অতিরিক্ত বিল দেখানো এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ। বলা হচ্ছে, মাত্র কয়েক বছরের চাকরিজীবনে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা স্বাভাবিক আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার অতীত নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ আছে, বিআইডব্লিউটিএতে চাকরির সময় তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করেও বেতন নিয়েছেন। একই সময়ে অন্য জায়গা থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারি চাকরির নিয়মের পরিপন্থী।

আরও অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ না করিয়েই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। যেমন—জিগাতলা এলাকায় কোয়ার্টারের কাজ সম্পন্ন না করেও বিল উত্তোলন এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি প্রকল্পে লাইটের দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগও রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা আলোচনা আছে। বলা হচ্ছে, রাজধানীতে বিলাসবহুল জীবনযাপন, ক্লাব সদস্যপদ গ্রহণ এবং প্রভাবশালী মহলে নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়স্বজনদের অপ্রয়োজনীয় পদে নিয়োগ দিয়ে সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) শামীম আক্তার এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জাহাঙ্গীর আলম নিজে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সব মিলিয়ে, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং দুদকের তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন সবার নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *