ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ ফরিদপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুজ্জামান সবুজের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুর, মুন্সীগঞ্জ ও নরসিংদীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি নির্বাচিত ঠিকাদারদের কাছ থেকে প্রকল্পের টাকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন আদায় করতেন।

ফরিদপুরে বদলি হওয়ার আগেই ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পিরোজপুরে একাধিক প্রকল্পে তিনি দলীয় ঠিকাদারদের কাজ দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে পুলিশ লাইনের ব্যারাক সংস্কার, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুম মেরামত, আনসার-ভিডিপি অস্ত্রাগার নির্মাণ এবং বিদ্যুতায়ন প্রকল্প। স্থানীয় ঠিকাদারদের দাবি, এসব কাজের কিছু অংশ তিনি নিজস্ব লোক দিয়ে করিয়ে অন্যদের নামে বিল তুলেছেন।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে পিরোজপুরে তার সময়কাল ছিল দুর্নীতির “সোনালি অধ্যায়”। প্রশাসনিক ভবন সংস্কার, জেলা কারাগারে ট্রান্সফরমার স্থাপন, কোর্ট ভবনের স্যানিটারি কাজ, মডেল মসজিদ নির্মাণসহ প্রায় সব বড় কাজই দলীয় প্রভাবশালী ঠিকাদারদের হাতে যায়। শুধু চারটি মডেল মসজিদের টেন্ডারেই প্রায় ৬০ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে বিশাল কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মুন্সীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে একই ধাঁচের অনিয়ম চলতে থাকে। ওই সময় মুমু এন্টারপ্রাইজ, ইসলাম ট্রেডার্স, রত্না এন্টারপ্রাইজসহ দলীয় ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়। গজারিয়ায় ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার ক্যাবল ট্রেঞ্চ থেকে ৯৮ লাখ টাকার পিসিআর ল্যাব স্থাপন পর্যন্ত—সব জায়গাতেই কমিশনের ছোঁয়া ছিল বলে অভিযোগ।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারচুপিও ছিল নিয়মিত বিষয়। একাধিক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ২০ জন ঠিকাদার অংশ নিলেও রেসপন্স করা হয় মাত্র এক বা দুইজনের প্রস্তাবে, যাতে পছন্দের ব্যক্তি কাজ পান। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

দলীয় ঘনিষ্ঠতা থেকেই শুরু তার উত্থান। শেখ হাসিনার সময় তিনি ছিলেন গণপূর্তের অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর নিজের অবস্থান বদলে নতুন রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা ব্যর্থ হয়। পরে তাকে মুন্সীগঞ্জ থেকে পিরোজপুর, সেখান থেকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়।

স্থানীয় ঠিকাদাররা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তাকে শুধু বদলি করা হয়েছে, কিন্তু দুর্নীতির বিচার হয়নি।” অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার মোহাম্মদপুরে তিনি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, একাধিক ফ্ল্যাট ও নাম-বেনামে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

যোগাযোগের চেষ্টা করলে নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুজ্জামান সবুজ সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “আমি মন্ত্রণালয়ে আছি,” এরপর ফোন কেটে দেন এবং পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সাড়া দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *