তৌহিদুর রহমানঃ মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে স্ত্রী চম্পট দেয়ার পর স্বামী সহ শশুর, দেবর ও ননদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি কালকিনি থানার উত্তর রমজানপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে।

জানা যায়, সৌদি আরব প্রবাসী স্বামীর নাম নাঈম হাওলাদার। সে ওই গ্রামের মিজান হাওলাদারের বড় ছেলে। স্ত্রী বিথী আক্তার হলেন মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার আইরকান্দি গ্রামের শহীদ ফকিরের মেয়ে। বর্তমানে শহীদ ফকির ডিএমপি’র কদমতলী থানার দক্ষিণ ধনিয়ার কুদ্রত আলী বাজারের ১৪৮১ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করেন। মিথ‍্যা মামলা সহ তাদের অত‍্যাচার নির্যাতন থকে রক্ষা পেতে ওই প্রবাসীর ছোট ভাই আফিফ হাসান কাউসার (আসামী) ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ নিজে বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী,আইন সচিব, আইজিপি, ঢাকার চীপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ ও আবেদন করেন । কাউসার তার অভিযোগ ও আবেদনের বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে আদালতে অবৈধ মামলা করে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। একই সাথে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,একাধিক পর-পরুষে আসক্ত ওই প্রবাসীর স্ত্রী বিথী আক্তার। হানি ট্রাফের মাধ্যমে যুবকদের থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়াই তার নেশা ও পেশা। বিথীর এসব অনৈতিক কাজে তার মা-বাবার সহযোগিতার হাত রয়েছে বলে সুত্র নিশ্চিত করে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব প্রবাসী নাঈম হাওলাদার এর সাথে বিথীর ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কাবিন মূল‍্যে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। এরপর নাঈম তার স্ত্রীকে বাবা- মায়ের কাছে রেখে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট পুনরায় সৌদি আরবে যান। এরপর পরোকিয়া আসক্ত স্ত্রী বিথী ২৮ মার্চ ২০২৫, সকাল ১০ টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বিয়েতে যাবার ছলনা করে তার শাশুড়ির কাছে থাকা সব স্বর্ণের গহনা (৩ ভরি) চেয়ে নেয়। তারপর প্রসাধনী জিনিসপত্র ও কাপড়- চোপড় বড় লাগেজে ভরে তার বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে একাই বেরিয়ে যায়। এরপর স্বামী নাঈম ও তার শশুর-শাশুড়ি একাধিক বার মোবাইলে ফোনে তাকে বাড়ি আসতে বল্লেও সে বিভিন্ন তালবাহানা করে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এ বিষয়টি বিথীর বাবা-মাকে একাধিকবার জানালেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

দীর্ঘদিন পর এক পর্যায়ে বিথী আক্তারের বাবা-মা নাঈমের বাবা-কে মোবাইল ফোনে জানায়, আমার মেয়ে বিথী আর তোমাদের বাড়ি যাবে না এবং তোমার ছেলের সংসারও করবে না। একইভাবে তারা বিথীর স্বামী প্রবাসী নাঈমকে মোবাইলে জানায়, আমার মেয়ে তোমার ঘর করবে না, আমার মেয়ের চিন্তা আর তোমাকে করতে হবে না, সময় মত কাগজ হাতে পেয়ে যাবা ইত্যাদি। তার কিছুদিন পর নাইমের পরিবার জানতে পারে বীথিকে দিয়ে তার বাবা শহীদ ফকির, তার মা ওমেনা বেগম,ভাই তানভীর হোসেন বিল্লাল ও তার ছোট খালু কাউসার মোল্লা বিথির কাছে থাকা নাঈমের ৩ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্নের গহনা। যার বাজার মূল্য ৮ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন জিনিসপত্র আত্মসাৎ করার নেশায় মেতে উঠেছে । তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিথীকে কু-পরামর্শ দিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে সরিয়ে বাপের বাড়ি আনে। এরপর বিথীকে দিয়ে স্বামী নাঈম হাওলাদার, নাঈমের বাবা মিজান হাওলাদার, ভাই আফিফ হাসান কাউসার ও তার বড় বোন মিতু বেগম এর বিরুদ্ধে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্নসাৎ করার উদ্দেশ্য আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

জানা গেছে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর কদমতলী থানার আমলী ২০ নম্বর আদালতের ওই মামলা নম্বর-৮৮২/২০২৫। ধারা- যৌতুক নিরোধ আইনের-৩। নাঈম হাওলাদার প্রবাসে অবস্থান কালে মিথ্যা মামলায় আসামি হওয়ায় পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয়ে দেশে আসতে সাহস পাচ্ছে না। বিথী ও তার পরিবারের লোকেরা মিথ্যা মামলা দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা স্বশরীরে ও মোবাইল ফোনে নাঈম ও তার মা- বাবা,ভাই ও বোনকে একাধিক মামলা দিয়ে জেল খাটাবার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তারা মামলা প্রত্যাহার করতে কাবিনের টাকা সহ ১০ লাখ টাকা আদায়ের পাঁয়তারা করছে। অভিযোগকারী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন বিথী আক্তার বিভিন্ন পর- পুরুষের সাথে ভয়ানকভাবে পরকীয়া আসক্ত। সে সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে বিভিন্ন পর পুরুষের সাথে কুরুচিপূর্ণ আলাপ করে এবং ভিডিও কলে নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ও অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করে। বিকৃত চরিত্রের এই সুন্দরী তরুণী একাধিক যুবক-কে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নেয়। এসব লুটের অর্থ তার বাবা-মার হাতে তুলে দিয়ে প্রচুর সম্পদ গড়েছে বলে স্বামীর পরিবারের দাবি । ওই লম্পট তরুণী বিভিন্ন নামে এক ডজন এরও বেশি ফেসবুক আইডি ও পেইজ খুলে এসব অনৈতিক কাজে ব্যবহার করে। এর মধ্যে বৈশাখী আক্তার বিথী, বিথী আক্তার, বিথী আক্তার বিথী, মেডিবয় বিথী পেইজ, খাদিজা আইডি ও পেইজ ইত্যাদির নাম জানা গেছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন, বিথি বিয়ের পরবর্তী সময় হতে স্বামীর বাড়ির কারো কোন কথা শোনে না। সংসারের কোন কাজকর্মও করতো না। নিজের ইচ্ছামতো বেপর্দায় বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করতো। এসব বিষয়ে নাঈমের পরিবারের লোকেরা তার বাবা- মা, ভাই ও ছোট খালুর সাথে কথা বললেও কোন কর্ণপাত করে নাই । বরং তারা আরো উৎসাহ দিয়ে তার জীবন ধ্বংস করেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে মিথ্যা মামলা কারিনী বিথী ও তার বাবা শহীদ ফকিরের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিবেদকের কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করে। অপরদিকে ভুক্তভোগী আফিফ হাসান কাউসার তার অভিযোগে বিথির মামলার আরজির সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক কাহিনী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন ওইসব অভিযোগের কোন দালিলিক তথ্য প্রমান নেই। সবই সাজানো নাটকের উপকরণ মাত্র।

এছাড়া এই মিথ্যা মামলাটি আদালতে তুলে দীর্ঘায়িত করে রাষ্ট্রের অর্থ অপচায় ও মূল্যবান সময় নষ্ট না করার আবেদন করেন তিনি। একই সাথে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণসহ মিথ্যা মামলাবাঁজ ও প্রকৃত অপরাধির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান ওই ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *