বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল/মেকানিক্যাল (ই/এম) বিভাগের তিন প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি কিংবা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল পর্যন্ত গড়িয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, আদালতের এ কার্যক্রম চলার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বা উচ্চতর পদে দায়িত্ব দেওয়ার ফাইল এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সরোয়ার আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, নিয়োগের ধরন, ক্যাডার স্ট্যাটাস এবং চলমান তদন্তের বিষয়গুলো পুরোপুরি নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই পদোন্নতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১, ঢাকায় এ.টি. মামলা নং-২৭৯/২০২৬ দায়ের হয়েছে। মামলাটি Md. Abdul Halim and 09 others বনাম Secretary, Ministry of Housing & Public Works and others। ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেন এবং বিবাদীদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো কেন আইনগত কর্তৃত্বের বাইরে ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে ২০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী সার্ভিস রিটার্নের তারিখ ১৭ নভেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।
মামলার পেছনে রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা একটি স্মারক। স্মারক নম্বর ২৫.০৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-৩৫২। ওই স্মারকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মত দেওয়া হয়, Bangladesh Civil Service (Examination for Promotion) Rules, 2017 গ্রেড-৬-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। একই সঙ্গে গ্রেড-৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদে তাদের পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়।
এই ব্যাখ্যাই এখন মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাদীপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলীরা নিয়মিত ক্যাডার সার্ভিসে এনক্যাডারভুক্ত নন। ফলে তারা কোন বিধির আওতায় ক্যাডারের উচ্চতর পদে পদোন্নতি পাবেন, সেটি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে Bangladesh Civil Service Recruitment Rules, 1981 এবং Bangladesh Civil Service (Examination for Promotion) Rules, 1986, পরবর্তী সংশোধনীসহ, কীভাবে প্রযোজ্য হবে—সেটিও আইনি প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে।
এই কারণেই ট্রাইব্যুনাল ৩১ আগস্টের আদেশে ৩ মার্চের ওই স্মারক এবং তার ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি বা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ.টি-১/৩১২/২০২৬ নম্বর স্মারকে আদেশটি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
এর মধ্যেই তিনজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আসে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংস্থাপন শাখা-১ থেকে ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই প্রস্তাবের স্মারক নম্বর ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১২.১০৭.১৮-১৩৫৭। এতে বলা হয়, রিজার্ভসহ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) পদ অনুমোদিত রয়েছে ১১টি। এর মধ্যে সাতটি পদে কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন। অবসর, প্রেষণ, পদোন্নতি ও নতুন পদ সৃষ্টিসহ বিভিন্ন কারণে কয়েকটি পদ শূন্য হয়।
সরকারি কাজের স্বার্থে শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে নিয়মিত পদোন্নতি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে—এমন যুক্তিতে তিনজন জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
প্রস্তাবিত তিন কর্মকর্তা হলেন মো. জিয়াউর রহমান, মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং মো. তাসফিন মুহাইমীন হক। মো. জিয়াউর রহমান তখন গণপূর্ত ই/এম ডিজাইন বিভাগ-১, ঢাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। তাকে ঢাকা গণপূর্ত ই/এম সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
মো. জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), রিজার্ভ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। তিনি গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগে সংযুক্ত ছিলেন। তাকে চট্টগ্রাম গণপূর্ত ই/এম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
অন্যদিকে মো. তাসফিন মুহাইমীন হক ছিলেন গণপূর্ত ই/এম প্ল্যানিং বিভাগ-৩-এর নির্বাহী প্রকৌশলী। তাকে রাজশাহী গণপূর্ত ই/এম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান।
তবে তিন কর্মকর্তার মধ্যে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে আলাদা একটি বিষয় সামনে এসেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন এবং সভা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা অধিশাখার একটি স্মারকে এ তদন্ত কমিটির সভার কথা উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে ৫ মার্চ ২০২৬ এবং ২০ জুন ২০২৬ তারিখের দুটি স্মারকের সূত্র দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভা ৯ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সভার নোটিশে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তের জন্য গঠিত কমিটির কথা উল্লেখ করা হয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে। একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যখন সরকারি পর্যায়ে অভিযোগের তদন্ত চলমান থাকার তথ্য রয়েছে, তখন একই কর্মকর্তাকে উচ্চতর পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করার আগে তদন্তের বিষয়টি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল? তার সার্ভিস রেকর্ডে তদন্তের তথ্য উল্লেখ ছিল কি না, কিংবা পদোন্নতির ফাইল যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে কি না—এগুলো এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তিন প্রকৌশলীর নিয়োগ ও পদোন্নতির যোগ্যতা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগকারীদের একাংশের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রকৌশলী নিয়মিত বিসিএস ক্যাডারের প্রচলিত নিয়োগ পদ্ধতির বাইরে বিশেষ প্রক্রিয়ায় চাকরিতে প্রবেশ করেছিলেন। এমনকি লিখিত পরীক্ষা ছাড়া শুধু মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে এই দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগের মূল প্রজ্ঞাপন, নিয়োগসংক্রান্ত আদালতের নথি কিংবা কোনো স্থগিতাদেশের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই ছাড়া অভিযোগটিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান ট্রাইব্যুনাল মামলায় সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের ক্যাডারভুক্তি ও উচ্চতর পদে পদোন্নতির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টির আইনগত জটিলতা স্পষ্ট হয়েছে।
পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিভাগীয় পরীক্ষা এবং সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট পর্যায়ের পদোন্নতির জন্য এসব পরীক্ষাসহ বিধিতে থাকা অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করা প্রয়োজন। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা হলো, কোন কর্মকর্তার ক্ষেত্রে কোন বিধিমালা প্রযোজ্য হবে, সেটি নিয়োগের ধরন ও সার্ভিস স্ট্যাটাসের ওপর নির্ভর করে। ফলে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং নিয়মিত ক্যাডার কর্মকর্তাদের পদোন্নতির বিধান একইভাবে প্রযোজ্য কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এদিকে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটি বা ডিপিসির মাধ্যমে তিন কর্মকর্তাকে উচ্চতর পদে বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায়ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত ফাইল এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। কোন বিধির অধীনে তাদের ডিপিসিতে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তাদের ক্যাডার স্ট্যাটাস কী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
পদোন্নতি ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, তিন প্রকৌশলীর পদোন্নতি বা ডিপিসি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ঘিরে ডিপিসি-সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করানোর জন্য অর্থ লেনদেনের গুঞ্জনের কথাও বলা হয়েছে।
তবে অর্থ লেনদেনের এই অভিযোগের পক্ষে কোনো ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, রসিদ, অডিও-ভিডিও বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে নয়, তদন্তযোগ্য অভিযোগ হিসেবে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই হলে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরকারি পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় ঘুষ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে একই সময়ে তদন্ত ও পদোন্নতির প্রস্তাব থাকার কারণে। একদিকে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটির সভা ডাকার সরকারি নথি রয়েছে। অন্যদিকে এর আগেই তাকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ফলে তদন্তাধীন কোনো অভিযোগ তার পদোন্নতির ফাইলে কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালও যখন সংশ্লিষ্ট পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্বের প্রক্রিয়ার আইনগত ভিত্তি নিয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন, তখন ওই আদেশের পর মন্ত্রণালয় বা গণপূর্ত অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
নিয়মিত বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো—পদোন্নতির ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা, বিভাগীয় পরীক্ষা, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা ও অন্যান্য বিধিবদ্ধ যোগ্যতা যদি প্রযোজ্য হয়, তাহলে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে একই বা ভিন্ন নিয়ম কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, সেটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। অন্যথায় একই ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা মনে করছেন।
এখন মূল বিষয় হলো, ৩ মার্চ ২০২৬-এর স্মারকের আইনগত ভিত্তি কী, সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্যাডার স্ট্যাটাস কী এবং তারা কোন বিধির অধীনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে ২৬ অক্টোবর ২০২৫-এর চলতি দায়িত্বের প্রস্তাব তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চলমান কোনো তদন্ত বা অভিযোগ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
বিশেষ করে মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের তথ্য যখন সরকারি নথিতে রয়েছে, তখন তার উচ্চতর পদে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবের সময় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানত কি না, জানলে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল—এ প্রশ্নের উত্তরও গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সরোয়ার আলম এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মদ সারওয়ার জাহান বিপ্লবের ভূমিকা নিয়েও ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। তবে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত হিসেবে বিবেচনা করার আগে সংশ্লিষ্ট নথি ও তাদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় একদিকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও চলতি দায়িত্বের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং পাশাপাশি একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে চলমান তদন্ত—তিনটি বিষয় একই সঙ্গে সামনে এসেছে। ফলে পদোন্নতির ফাইলের প্রতিটি ধাপ, ডিপিসির সিদ্ধান্ত, কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও সার্ভিস রেকর্ড এবং চলমান তদন্তের তথ্য একসঙ্গে যাচাই করলেই বিষয়টির প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর পদে নিয়োগ বা চলতি দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাই অভিযোগগুলো সত্য কি না, কারও বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো তথ্য রয়েছে কি না কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী পদোন্নতির যোগ্য কি না—এসবের চূড়ান্ত উত্তর নিরপেক্ষ তদন্ত ও নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের কারণ দর্শানোর নোটিশের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর পদোন্নতি-সংক্রান্ত ফাইলের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং চলমান তদন্ত ও মামলার বিষয়গুলো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কীভাবে বিবেচনা করা হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ রবিন মিয়া
নির্বাহী সম্পাদকঃ ইরিন তৃষ্ণা
ফোন নাম্বারঃ 01937643838
ফোন নাম্বারঃ 01772666086
Email: News@doinikalokbarta.com
সম্পাদকীয় ও বার্তা কার্যালয়: সেকশন-৬, ব্লক-ক লেইন-১, বাড়ি - ২০/১ মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
Copyright © 2025 All rights reserved দৈনিক আলোক বার্তা