নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় ছাত্র সমাজের সদস্য সচিব মো. আরিফ আলী অভিযোগ করেছেন যে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে প্রচারের যে অপচেষ্টা চলছে—তা “স্পষ্ট মিথ্যাচার এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার”।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের প্রথম দিন থেকেই জাতীয় ছাত্র সমাজ ও জাতীয় পার্টি রাজপথে সক্রিয় ছিল। অথচ এ সত্যটি গোপন করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, যা তিনি “নিন্দনীয় ও ধিক্কারযোগ্য” বলে মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে তিনি জানান, আন্দোলনের সময়ে রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতা মেরাজুল ইসলাম এবং জাতীয় অটো শ্রমিক পার্টির নেতা মানিক মিয়া শহিদ হন। ১৩ জুলাই জাতীয় ছাত্র সমাজ আন্দোলনে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায় এবং ১৬ জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর দেশের প্রথম সংগঠিত বিক্ষোভ রংপুরে জাপার ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয়—যেখানে পুলিশি হামলায় বহু নেতা-কর্মী আহত হন।

আরিফ আলী বলেন, ১৭ জুলাই আবু সাইদের গায়েবানা জানাজা থেকে শুরু করে ২১ জুলাই তাকে এবং জাতীয় যুব সংহতির রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আহম্মেদসহ সাতজনকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়। পরে ১১টি “মিথ্যা মামলা” দিয়ে ৭ জনকে গ্রেফতার এবং ৩৩ জন নেতা-কর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়, যা জাতীয় গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, জিএম কাদেরের নির্দেশে সারা দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে জাতীয় পার্টির তিন শতাধিক কর্মী টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন।

তার দাবি, ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে একদফা আন্দোলনে জাতীয় পার্টির প্রকাশ্য একাত্মতা এবং ৫ আগস্ট সরকার পতন পর্যন্ত দলের অবিচল উপস্থিতি—এসব প্রমাণ করে জাপা আন্দোলনের অংশীদার ছিল। “এমন ইতিহাস থাকার পরও যারা জাপাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলছে, তারা জুলাই বিপ্লবের শহিদদের রক্তকে অপমান করছে,”—বলেন তিনি।

বিবৃতিতে আরিফ আলী বলেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংসদ, জনসভা ও গণমাধ্যমে শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমর্থনে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন।
তার ভাষায়, তাদের বিরুদ্ধে চলমান অপপ্রচার “রাজনৈতিক হীন স্বার্থের বহিঃপ্রকাশ”।

বিবৃতির শেষে তিনি এ ধরনের “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের” তীব্র প্রতিবাদ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *