তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে, এটি কেবল ইইউর বিষয় নয়, এটি পুরো ইউরোপ মহাদেশের বিষয়। এর অর্থ হলো—যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, তুরস্ক এবং ইউক্রেনের সঙ্গে নিঃসন্দেহে একটি যৌথ সহযোগিতা।’
সংকটকালীন সময়ে দ্রুত সমন্বয় সাধন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও শিল্পের জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা দিতে একটি উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরাম হিসেবে ‘ইউরোপীয় নিরাপত্তা পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব পুনর্ব্যক্ত করেন মিশেল।
চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি জানান, ইইউর উচিত আরও স্বাধীন দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা। বেইজিংয়ের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে ইউরোপ প্রায়শই নিজেকে ওয়াশিংটনের ‘হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।
তিনি যুক্তি দেন, ইউরোপকে তার নিজস্ব স্বার্থ নির্ধারণ করতে হবে এবং সম্পৃক্ততার সঙ্গে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কোনো সম্ভাব্য চুক্তি বা উত্তেজনা দেখা দিলে ইউরোপের অগ্রাধিকারগুলো উপেক্ষিত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অতীতের বিভিন্ন নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে মিশেল বলেন, রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি, চীনের উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ন্যাটোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীলতার মডেল আর ইউরোপের জন্য টেকসই নয়।
তিনি বলেন, ‘এই মডেলের অবসান ঘটেছে এবং আমাদের এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। আমাদের আরও কৌশলী হতে হবে। আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে। চলুন কাজ শুরু করি এবং দ্রুত কাজ করি।’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশ্বাসযোগ্যতা ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে সতর্ক করেছেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে তুষ্ট করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও জোরালো ও স্বাধীন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।