
বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী সম্প্রতি এই অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এর আগে তিনি একই অধিদপ্তরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তাসনিম ফারহানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে।
প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মোহাম্মদ শামীম আখতার গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর (চলতি দায়িত্ব) পদে ছিলেন। শামীম আখতারকে এখন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি নাজিমুদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, ফরিদপুর থেকে ১৯৮৫ সালে এসএসসি এবং সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর থেকে ১৯৮৭ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯২ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে মোনাশ ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া থেকে ২০১৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন।
খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সরকারি চাকরির জীবন ১৯৯৯ সালে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে শুরু হয়। ২০১২ সালে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং সেই বছরের ডিসেম্বরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি লাভ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সরকারি পর্যায়ে সুনাম অর্জন করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে তিনি ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন।
চাকরিরত অবস্থায় খালেকুজ্জামান চৌধুরী দেশ-বিদেশে স্বল্পকালীন ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তিনি ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশে সেমিনার ও ভ্রমণ করেছেন। বিদেশে থাকাকালীন সময় তিনি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, প্রকিউরমেন্ট ও অন্যান্য নির্মাণ কাজে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তিনি ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (IEB)-এর আজীবন ফেলো। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও সক্রিয়। ২৮ অক্টোবর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে খালেকুজ্জামান চৌধুরী গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়েও তদারকি শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সফলতা পেলে তার প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সুনাম আরও বৃদ্ধি পাবে।
