বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী তামজীদ হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিজের সুবিধামতো পদায়ন, ঠিকাদার সিন্ডিকেট গঠন এবং ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে কোটি টাকার সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী সরকারের শেষ সময়ে তামজীদ হোসেন চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে পৈশাচিক কায়দায় উস্কানি ও অর্থায়নের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সরকারের পতনের পর চট্টগ্রামে অবস্থান অনিরাপদ হয়ে পড়লে বিপুল অর্থ ব্যয়ে তদবির করে তিনি ঢাকায় বদলি হন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম সার্কেল-২ এর অধীনে ই/এম বিভাগ-৫ এ তাঁর এই বদলিতে সহযোগিতা করেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদ—যাঁর সঙ্গে চট্টগ্রামকালীন সময়ে তামজীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

ঢাকায় আসার পর তামজীদ শুধু নিজেই বদলি হননি, বরং চট্টগ্রামের বেশ কিছু আস্থাভাজন ঠিকাদারকেও সঙ্গে এনেছেন। তাঁদের নিয়ে তিনি নতুন করে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে তাঁর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার মিঠুনকে তিনি সরাসরি অফিসে বসিয়ে কাজ করাচ্ছেন, যা সরকারি বিধি-বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। মিঠুনের জন্য অফিসে আলাদা রুম বরাদ্দ দেওয়া নিয়েও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ই/এম বিভাগ-৫ এর ১০ জন কর্মচারী নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। তাঁরা মিঠুনকে অফিস থেকে সরিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। কিন্তু অভিযোগের পরও তামজীদ হোসেন উল্টো অভিযোগকারীদের ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাঁদের বদলি ও হয়রানির হুমকি দিতে থাকেন।

তামজীদ হোসেন ২০১৩ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগ দেন। আওয়ামী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তিনি দ্রুত সুবিধা নিতে সক্ষম হন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় এক যুগের চাকরি জীবনে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট ও গাড়ি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এসব সম্পদ তাঁর জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দুর্নীতি দমন কমিশন তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুসন্ধান করলে অজানা সম্পদের খোঁজ মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে তামজীদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *